শুক্রবার (৬ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে বৃষ্টি আইনে ১২৩ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। তামিম-লিটন তাণ্ডবে জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়া প্রতিবেদক: অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে তামিম-লিটন তাণ্ডবে জিম্বাবুয়েকে তিন ম্যাচ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে টস হেরে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করতে নামে। জিম্বাবুয়েকে বৃষ্টি আইনে ১২৩ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১৬৯ রানে ও দ্বিতীয় ৪ রানে জয় পেয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে রেখেছিল মাশরাফির দল। এই ম্যাচ দিয়েই অধিনায়ক হিসেবে ৫০ ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ড গড়ে মাশরাফি।

আজ বৃষ্টিবিঘ্নিত এ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২২ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টি আইনে এ লক্ষ্যটাই জিম্বাবুয়ের জন্য বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩ ওভারে ৩৪২। এই পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৭.৫ ওভারে জিম্বাবুয়ের ইনিংস ৬ উইকেটে ১৬৪ রানে পরিণত হলে ম্যাচের আর কী থাকে!

যেটুকু বাকি থাকে তা শুধুই আনুষ্ঠানিকতা আর অধিনায়ক মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচকে যতটুকু সম্ভব রাঙানো। ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবাল-লিটন দাসের পর বোলিংয়ে সবার ‘যৌথ প্রযোজনা’য় সে কাজটিই করেছেন ক্রিকেটাররা। তাতে তৃতীয় ওয়ানডেতে ১২৩ রানের জয়ে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করল বাংলাদেশ। আর অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি তাঁর শেষ ম্যাচে দেখা পেলেন ৫০তম জয়ের। ৩৭.৩ ওভারে ২১৩ রানেই অলআউট জিম্বাবুয়ে।

এদিন বল হাতে দারুণ ভেলকি দেখান তাইজুল, সাইফউদ্দীন ও মোস্তাফিজুর।সাইফউদ্দীন ৪টি, তাইজুল ২টি উইকেট নেন। মাশরাফি একটি উইকেট পেলেও রান দেয়ায় ছিলেন বেশ উদার।

টাইগারদের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ড রানের পর এবার যেকোনো উইকেট জুটিতেই সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ গড়েছেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। এছাড়া বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক এখন লিটন।

আগের ম্যাচেই বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। এবার তার সামনেই এই রেকর্ড ভাঙলেন লিটন দাস। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ বলে ১৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ধ্বংসাত্মক এ ইনিংসে ছিল ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কার মার। তামিমকে আউটই করতে পারেননি জিম্বাবুইয়ান বোলাররা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি পূরণ করে ৩০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ১২৮ রানে। তামিম ইকবাল পেলেন টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের যেকোনও উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি এখন ২৯২ রান। আগের সর্বোচ্চ জুটি ছিল সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহর। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েছিলেন ২২৪ রানের জুটি। দেশের ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা জুটির পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড করা তামিম-লিটন বিশ্ব ক্রিকেটের তৃতীয় সেরা উদ্বোধনী জুটি।

এ যে ‘রেকর্ডের রেকর্ড’। আর তা অধিনায়ক মাশরাফির শেষ ম্যাচে। এর চেয়ে স্মরণীয়, স্বপ্নিল, রঙিন, বর্ণিল আর সাফল্যে মোড়ানো বিদায় আর কী হতে পারে? জয়ের পর অধিনায়ক মাশরাফিকে কাঁধে তুলে মাঠে ঘুরেছেন ক্রিকেটাররা। মাশরাফিকে কাঁধে তুলেছিলেন তামিম ইকবাল, সঙ্গে ছিলেন বাকি ক্রিকেটাররা।

এর আগে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারী জিম্বাবুয়ে। আগামী ৯ ও ১১ মার্চ মিরপুর শেরেবাংলায় টাইগারদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে অতিথিরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৪৩ ওভারে ৩২২/৩ (লিটন ১৭৬, তামিম ১২৮*, আফিফ ৭, মাহমুদউল্লাহ ৩)।

জিম্বাবুয়ে: ৩৭.৩ ওভারে ২১৮/১০ (সিকান্দার রাজা ৬১, মাধেভার ৪২; সাইফউদ্দিন ৪/৪১)।

ফল: বাংলাদেশ ১২৩ রানে জয়ী।