নিউজ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবির পোজ দিয়ে সমালোচিত হয়েছেন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহাপুর) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বাবলু তার হাতে থাকা অস্ত্রটি বৈধ বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একজন এমপির অস্ত্র প্রদর্শনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদর্শন অত্যন্ত অশোভন ও হীন অভিব্যক্তির প্রতিফলন বলে মতপ্রকাশ করেছেন সুধীজনরা। তবে এই ছবি ফেইসবুকে যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছেন বাবলু।

এদিকে রেজাউল করিম দাবি করেন, নিরাপত্তার জন্যই তিনি অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছেন। সপ্তাহখানেক আগে রাজধানীর একটি অস্ত্রের দোকান থেকে তিনি ৮০ হাজার টাকায় একটি বিদেশি পিস্তল কিনেছেন। দোকানে বসে পিস্তল নাড়াচাড়া করার সময় তার সঙ্গে থাকা কোনো কর্মী মুঠোফোনে ছবি তুলে তা তাদের ফেসবুক ওয়ালে আপলোড দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড দিতে আইনি কোনো বাধা নেই। তার সঙ্গে থাকা কোনো কর্মী তাকে না বলেই ফেসবুকে দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আর তাকে অপছন্দ করা কিছু সাংবাদিক এই ছবি ভাইরাল করে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে বাবলুর এই বক্তব্যের জবাবে সাংবাদিক চপল সাহা বলেন, আমি ওই ছবিটা রেজাউল করিম বাবলুর ফেইসবুক ওয়াল থেকে পেয়েছি। আমার কাছে বিষয়টি অন্যায় মনে হয়েছে। আইন প্রণেতা সংসদ সদস্যের এমন ছবি পোস্ট উচিত কি না। তাই বিবেকের তাড়নায় দিয়েছি। কারও প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে নয়।

পোস্টটি এখন ফেইসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে চপল সাহা বলেন, এর আগে তিনি স্ক্রিন শট নিয়ে রেখেছেন। তবে সংসদ সদস্যের হাতে আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি নিয়ে বগুড়া শহরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন রেজাউল করিম বাবলু। তখন এই আসনে বিএনপির প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল হয়। নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপির সমর্থন পান রেজাউল করিম বাবলু। নির্বাচনে তিনি এক লাখ ২৯৯ ভোট পেয়ে বগুড়া শাজাহানপুর ও গাবতলী উপজেলার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।