নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুরবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে আইয়ুব আলী আবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। ছবি: মো. আখলাকুজ্জামান

বিশেষ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্নেহাশিস আস্থাভাজন আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী প্রামাণিক।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের জনগণের কাছে সৎ, সাহসী, নির্লোভী, ত্যাগী, সংগ্রামী এবং আদর্শিক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ হিসেবেই তিনি পরিচিত। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১নং নাজিরপুর ইউনিয়নের সিংহপুরুষ খ্যাত এই নেতা আওয়ামী লীগ মনোনতি প্রার্থী ছিলেন। এবারো আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আ’লীগ দলীয় মনোনয়ন পেলে নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হওয়ার শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

জানতে চাইলে আইয়ুব আলী প্রামাণিক বলেন, বিগত নির্বাচনে কীভাবে আমাকে হারানো হয়েছে তা সবাই জানেন। মানুষের ভোটের রায় স্থানীয় একজন নেতা ক্ষমতার জোরে জোর করে ছিনতাই করেছেন। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল বিষয়ে অবগত আছেন।

তিনি আরো বলেন, আমি আইয়ুব কোন দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করি নাই। নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নেই নাই। নেত্রী যখন যাঁকে নৌকার প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন, আমি তাঁর পক্ষেই মাঠে নেমেছি। নৌকার জন্য ভোট প্রার্থনা করে জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস জননেত্রী আমার ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন। দলের নীতি ও আদর্শের প্রতি অনুগত থাকার মুল্য আমি পাব।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আইয়ুব আলীর রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল অত্যন্ত অল্প বয়সেই। সরাসরি আওয়ামী যুবলীগের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনীতিতে পদার্পন ঘটে। ১৯৯৮ সালে নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইয়ুব আলী নাজিরপুরবাসীর ভাগ্যোন্নয়নের হাল ধরেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী তাঁর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।

এরপর নাজিরপুরের অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য ভুমিকা পালন করেছেন তিনি। এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মানসহ অবকাঠামোগত নানা বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

বিশেষ করে, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে অবৈধভাবে দখলকৃত নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্পত্তি উদ্ধার করে পরিষদের সৌন্দর্য্যবর্ধন করেছেন। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সুদর্শন গেট, সীমানা প্রাচীর, সবুজ আমবাগান এবং ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অবস্থিত ‌‘চেয়ারম্যান মার্কেট’ সবই তাঁর সময়ে সংঘটিত উন্নয়ন চিত্রের প্রতিচ্ছবি।

বর্তমানে নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইয়ুব আলী। একসময় নাজিরপুর-দুধগাড়ি রোডে আশুতোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের পেছন এলাকা ছিল সমগ্র বাজারের ময়লা ফেলার স্তুপ। সেখানে পাকা সড়ক নির্মাণ করে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী এই আ’লীগ নেতা। সেই সাথে বাজারের পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিময় করে তুলেছেন।

জানতে চাইলে আইয়ুব আলী বলেন, স্থানীয় জনসাধারণ ও দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছেন। জনগণকে সাথে নিয়ে অতীতের ন্যায় সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।

তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করেও জনগণ থেকে কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারে নাই। নাজিরপুরের মানুষ আমাকে ভালবাসে। আমার ডাকে সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ যেকোনো মুহুর্তে রাস্তায় নামে।

আইয়ুব আলী আরো বলেন, নাজিরপুরবাসী আমাকে যে ভালবাসা দিয়েছে, এখনো দিচ্ছেন, আমি কখনো তার মুল্য দিতে পারব না। তাই আমি আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁদের পাশে থেকে সেবা করতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানে কাজ করে যেতে চাই।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জীবনের ব্রত মনে করে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হন এই আওয়ামী লীগ নেতা। ২০০১-২০০৬ সালে আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছেন সময়ের এই সাহসী সন্তান।

তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করতে তাঁকেসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে প্রায় ১০-১২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।

জানা যায়, আইয়ুব আলী প্রামাণিকের পুর্ব পুরুষরা সুদীর্ঘকাল থেকে নাজিরপুরের বাসিন্দা। তাঁর দাদা হেজাতুল্লাহ প্রামাণিক নাজিপুরে গ্রাম প্রধান ছিলেন। নন্দকুজা নদীর তীর ঘেঁষা দুধগাড়ী ও বৃন্দাবনপুর গ্রামে আইয়ুব আলী জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতা আলহাজ্ব মো. খলিলুর রহমান একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ছিলেন। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শংকর গোবিন্দ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শংকর ঘোষ, বাবুলাল সাহা, অমুল্য ঘোষ, কালিপদ ঘোষসহ তৎকালীন হিন্দু নেতাদের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন ও ব্যবসায়িক সহযোগী ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি হিন্দু গ্রামবাসীদের জন্য নিজের বাড়িতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। আইয়ুব আলীর মাতার নাম মোছাঃ নুরজাহান বেগম।

এ প্রসঙ্গে নাজিরপুর ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আইয়ুব আলী প্রামাণিক বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে যোগ্যতা সম্পন্ন দক্ষ ও সাংগঠনিক দক্ষতাপুর্ণ চেয়ারম্যান নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নাজিরপুরবাসী উন্নয়নের পক্ষেই রায় দিবেন। আওয়ামীলীগ অবশ্যই যোগ্য ও পরিক্ষিত নেতাদের মনোনয়ন দেবেন।

আমাকে সুযোগ দেয়া হলে, অবশ্যই আমার রাজনৈতিক জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সর্বোচ্চ ভুমিকা রাখবো।

কৃতজ্ঞতা: মো. আখলাকুজ্জামান