নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগ ‘পুতুল সরকার’ হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার আধিপত্যবাদের পুতুল সরকারে পরিণত হয়েছে। তারা শুধুমাত্র তাদেরই এজেন্ডা এখানে বাস্তবায়িত করছে। তাদের সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার, জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করা- এটাই হবে আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি এ সভার আয়োজন করে।

জানা গেছে, ১/১১‘র সরকারের আমলে ২০০৭ সালে ২ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে এই দিনটি বিএনপি কারাবন্দি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, সভায় কিছুক্ষণ আগে আমাদের একজন বিজ্ঞ আলোচক বলেছেন, পুতুল সরকার। এটা (আওয়ামী লীগ সরকার) আধিপাত্যবাদের পুতুল সরকারে পরিণত হয়েছে। তারা শুধুমাত্র তাদেরই এজেন্ডা এখানে বাস্তবায়িত করছে। তাদের সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আসুন আমরা সবাই এক সঙ্গে কাজ করি।

বিএনপি বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভিন্ন নাটক তৈরি করেছে। ১/১১‘র সেনা সমর্থিত সরকার তৈরি হয়েছে। দুই বছর সম্পূর্ণ অসাংবিধানিকভাবে সরকার নিয়ে গেছে তারা। তারপর একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেছে যে নির্বাচনটা ছিল ষড়যন্ত্রমূলক। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়া একবারের জন্যও মাথা নোয়াননি।

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়া অবদানের কথা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী একজন ক্যারিসমেটিক লিডার। তিনি তো ছিলেন হ্যামিলনের বংশীবাদক। তিনি লন্ডন থেকে দেশে এলেন, রোহিঙ্গারা এসে গেছে তখন। আমরা তাকে বললাম আপনার একবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট করা দরকার। তিনি রাজি হলেন। আমরা কক্সবাজারে গেলাম। এ সময় আসা ও যাওয়া পথে ছিল লাখ লাখ মানুষ।

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, এখন আমাদের বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে হবে। উনার মুক্তি মানে গণতন্ত্রের মুক্তি, দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি। আসুন সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে একেবারে ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কাজ করি।