বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাস ও সংঘাত প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র হ্যাকেন'স জ্যার্নি টু পিস এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, আমরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েই মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলাম। এক সময় এই স্লোগান নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করা হলেও সেই জয় বাংলা স্লোগান আবারো সামনে এসেছে। আর ইতিহাস ঘাতকদের সঠিক জায়গায় নিয়ে গেছে।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘জঙ্গি মৌলবাদী সন্ত্রাস ও সংঘাত প্রতিরোধে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র হ্যাকেন’স জ্যার্নি টু পিস এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, লালন সঙ্গীতশিল্পী ফরিদা পারভীন ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক শিক্ষাবিদ জাফর ইকবাল, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রমুখ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, জঙ্গীবাদ এখন সারাবিশ্বের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব ধর্মের মধ্যেই এখন জঙ্গীবাদ মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে এর সূত্রপাত হয়েছে ছাত্র শিবিরের রগ কাটার মধ্য দিয়েছে। এই দেশকে জঙ্গীবাদে পরিণত করার জন্য আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু সফল হতে পারেনি।

আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, আমরা বিদেশিকে হত্যা করার দৃশ্য দেখলাম, ইসকন মন্দিরের পুরোহিতকে হত্যার দৃশ্য দেখলাম, বান্দরবানের এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকের হত্যার দৃশ্য দেখলাম, ধর্ম যাজককে হত্যা চেষ্টার দৃশ্য দেখলাম, শিয়া মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনকে হত্যা করার দৃশ্য দেখলাম। এগুলো সবই সূত্র একই। শিবির এদেশে জঙ্গিদের উত্থান ঘটাতে চেয়েছিল। আন্তর্জাতিক মৌলবাদী সন্ত্রাসের সঙ্গে আমাদের দেশকে যুক্ত করার প্রচেষ্টাও আমরা দেখেছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, সেদিন আমরা দেখেছিলাম মা তার জঙ্গি ছেলেটিকে আমাদের হাতে তুলে দেয়ার দৃশ্যটিও। আর জঙ্গিকাণ্ডে যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের আত্মীয়-স্বজন তাদের স্বীকার করেনি। এমনকি নিহত জঙ্গিদের লাশও তার পরিবাদ গ্রহণ করেনি। বাংলাদেশের জনগণ কখনোই জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না।

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, আমাদের লালনকে সবার মাঝে তুলে ধরতে হবে। লালনের গান সবাই ভক্তি সহকারে শোনে৷ আমি লালন আখড়ায় মাঝে মাঝেই গিয়ে বসে থাকি। গান শোনার জন্য। লালন কী বলে গেছেন তা বোঝার চেষ্টা করি। আমি লালনভক্ত একজন মানুষ। দেশকে জঙ্গি-সন্ত্রাসমুক্ত করতে হলে সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, এই দেশ হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সবার। বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার কারণে আজ এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। কিন্তু সারাবিশ্বে আজ সব ধর্মের মধ্যে যে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি হয়েছে এটা প্রতিরোধে সবার মধ্যে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক দর্শন ছড়িয়ে দিতে হবে।