নিউজ ডেস্ক: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, খিচুরি রান্না দেখতে আমিও ভারতে গিয়েছিলাম। স্কুলের শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার অর্থাৎ খিচুড়ি ব্যবস্থাপনা দেখতে বিদেশে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা নিয়ে হৈ চৈ করার মতো অবস্থা নেই।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের রান্না করা খাবার হিসেবে খিচুড়ি দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, কর্মকর্তাদের যারা মিড-ডে মিল বাস্তবায়ন করবেন তাদের প্রশিক্ষণের জন্য কিছু বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। খিচুড়ি রান্না শেখার জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) প্রস্তাব করা হয়নি। আমি নির্দেশ দিয়েছি, যারা প্রোপাগান্ডা চালাবে প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। এটি নিউজ হয়নি, প্রোপাগান্ডা হয়েছে। সাংবাদিকরা আমাদের প্রিয় মানুষ। তাদের কারও কাছ থেকেই আমরা প্রোপাগান্ডা আশা করি না।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, যেকোনো বিষয়েই অভিজ্ঞতা নিতে হয়। অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করলে তার ফলও ভালো পাওয়া যায়। স্কুলের শিশুদের জন্য রান্না করা খাবারের ব্যবস্থাপনা দেখতে আমি নিজেও ভারতের কেরালায় গিয়েছিলাম।

ডিপিইর এ প্রস্তাবের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, ওই প্রস্তাব আমরা এখনো দেখিনি। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নের অর্থ চেয়ে একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তবে যেকোনো প্রকল্প নেওয়ার সময় ওই বিষয়ে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা অর্জন বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণের একটি বিষয় উল্লেখ থাকে। এটি যেকোনো প্রকল্প বা কর্মসূচির একটি রীতি।

প্রসঙ্গত, খিচুড়ি রান্না করা শিখতে ১ হাজার সরকারি কর্মকর্তাকে বিদেশে পাঠাতে ৫ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে- গণমাধ্যমে এমন খবর প্রচারের পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, খিচুড়ি রান্না শিখতে নয়, ব্যবস্থা দেখতে, পুরো মিল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নিতে বিদেশে যাওয়ার জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।