নিউজ ডেস্ক: রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, করোনার সময় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ট্রেন চলাচলের যে ব্যবস্থা হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। সেজন্য ভাড়া বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রেল ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৫০টি ব্রডগেজ ও ৭৫টি মিটারগেজ লাগেজ ভ্যান ক্রয়ের চুক্তিপত্র সই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এসময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহপরিচালক মো. শামসুজ্জামানসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সব ট্রেন আমরা পর্যায়ক্রমে চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি মন্তব্য করে রেলমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা রেলের ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি, তবে এ বিষয়ে গবেষণা চলছে ভবিষ্যতের জন্য। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে ট্রেন চালাতে। তিনি পণ্য পরিবহন করে রেলের আয় বাড়াতে বলেছেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ জোড়া ট্রেন চালু হলে মোট ৬৭ জোড়া ট্রেন চলাচল শুরু হবে জানিয়ে রেলপথ আরো মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ রেলওয়েকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। যাত্রী সেবার মান উন্নয়নসহ রেলপথ নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এরই অংশ হিসেবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এর সহযোগিতায় ১২৫টি লাগেজভ্যান সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছেন।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, কৃষকের পণ্য সারাদেশে পৌঁছে দিতে লাগেজ ভ্যান ক্রয় করছে রেলওয়ে। লাগেজ ভ্যানের মাধ্যমে কম খরচে গ্রাম থেকে ঢাকায় পণ্য নিয়ে আসতে পারবে কৃষক। ফলে কৃষকরা লাভবান হবে। পাশাপাশি রাজধানীবাসীও ফ্রেশ পণ্য পাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ ভ্যান এসে পৌঁছাবে।

উল্লিখিত লাগেজভ্যানসমূহ স্টেইনলেস স্টিল বডি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, উচ্চগতি সম্পন্ন বগি এবং অটোমেটিক এয়ার ব্রেক সিস্টেম সম্বলিত হওয়ায় সাধারণ ও বিশেষায়িত পণ্য, যেমন: বিভিন্ন রকমের খাদ্য দ্রব্য, অন্যান্য পচনশীল দ্রব্য ইত্যাদি কম খরচে ও কম সময়ের মধ্যে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

রেলওয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় ১২৫টি ল্যাগেজভ্যান সংগ্রহের জন্য চার কোটি সাতাশ’ লাখ ৪১ হাজার পাঁচশ’ ঊনসত্তর মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে; যা বাংলাদেশি ৩৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার (সিডি-ভ্যাট ব্যতীত) সমপরিমাণ। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে ২০ মাসের মধ্যে সরবরাহ শুরু হবে এবং ২৭ মাসের মধ্যে শেষ হবে।