বিশেষ প্রতিবেদক: করোনার শুরু করে আজ অবধি কোথায় নেই তিনি! রাতের আঁধারে খাবার নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। দিনের আলোয় কর্মী বাহিনী নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে। খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ইউনিয়নের প্রতিটি বাসায় বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে মাস্ক, সাবান, স্যানিটাইজার।

মানুষকে সচেতন করতে হাটে বাজারে মাইক হাতে প্রচারণায় নামছেন। আবার জীবানুনাশকের সিলিন্ডার পিঠে বেঁধে স্প্রে করছেন। যার যতটুকু সাহায্য প্রয়োজন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল সব সময়ই ইউনিয়নবাসীর জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কখনও ফলের ডালা, কখনও ত্রাণসামগ্রীর প্যাকেট। হাসি ফোটাচ্ছেন একের পর এক গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে। শুধু নিজের ইউনিয়ন নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি ইউনিয়নে পড়েছে তার মানবিক সহায়তা।

মহামারি করোনাভাইরাস সংকটে, চাল চুরি, তেল চুরি নিয়ে দেশজুড়ে তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই যখন জেল জরিমানা গুনছেন, তখন একের পর এক নিজের ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টায় মানবতার জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়ে যাচ্ছেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার তৃণমূলের এক জনপ্রতিনিধি। তিনি সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের পর পর দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ লুৎফল হাবিব রুবেল।

পুরো নাটোর জেলার মধ্যে শেরকোল ইঊনিয়নেই শতভাগ লকডাউন পালিত হয়েছে করোনার সংকট শুরু হওয়ায় পর থেকে হতদরিদ্র, কর্মহীন অসহায় মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে বিপুল পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দিয়ে প্রশংসিত হয়েছে ।

চলনবিল অধ্যুাষিত শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব নিয়েই আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাঈদ আহমেদ পলকের পরামর্শ ও সহযোগিতায় কল্যাণমুখী কার্যক্রম আর চেয়ারম্যানের জনবান্ধব নানা উদ্যোগে বদলে যেতে থাকে এই ইউনিয়নের চিত্র। বর্তমানে নাটোর জেলার সন্ত্রাস ও মাদকএবং নিরক্ষরমুক্ত আর্দশ একটি ইউনিয়নে পরিণত করেছেন। যার স্বীকৃতি স্বরুপ বেশ কয়েকবার জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

অধ্যক্ষ লুৎফুল হাবিব রুবেল জানান, আমি আমার ইমু, ফেসবুক এবং ক্ষুদেবার্তা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি। অনেক পরিবার আছে চক্ষু লজ্জা, সামাজিক মান হানির ভয়ে কারও কাছে চাইতে পারে না। তারা আমাকে ম্যাসেজ পাঠায়, ফোন করে তখন আমি রাতের বেলায় তাদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিই।

করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে যখন খুঁজেও জনপ্রতিনিধিদের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না, তখন সবার আগে তিনি নিজের এলাকায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করে শুরু করেন সতর্কতামূলক প্রচারণা। সংকটের মাঝেও ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা হোমকোয়ান্টাইনে থাকা তিনশ পরিবারের বাড়ি বাড়ি দিয়ে আসেন খাদ্য সহায়তা।

কর্মহীন, শ্রমজীবী অসহায় মানুষদের নিয়মিত উপহার হিসেবে খাবার প্রদানের পাশাপাশি কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুর সহ জনগোষ্ঠীকে নগদ টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন। করোনা সংকটের পুরো সময় ধরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য উদয়াস্ত হ্যান্ডমাইক হাতে বিরামহীন প্রচার চালিয়ে আসছেন।

নিজে সুস্থ থাকি, অপরকে সুস্থ রাখি, তিনি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি বাজারে হেঁটে হেঁটে হ্যান্ড মাইক দিয়ে মাইকিং করে জনসাধারণসহ বাজার ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহবান জানাতে দেখা যায়।

করোনার দুঃসময়ে বিপাকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। সরকারি-বেসরকারি পর্যায় থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই ক্রান্তিকালে শেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান খুঁজে খুঁজে ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি গিয়ে দিয়েছেন ফল-ফলাদির রঙিন ডালা।

হাতের কাছে এত পুষ্টিকর ফল এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ এই মুক্তিযোদ্ধাদের চোখমুখে ভেসে ওঠে খুশির বান। ইউনিয়ন ছাড়াও তিনি হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়, ইমাম, মাদ্রাসাশিক্ষক, ভিক্ষুক ও পত্রিকার হকারদের মধ্যেও খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ লুৎফল হাবিব রুবেল প্রতিবেদককে বলেন, করোনা সংকটের পুরোটা সময় ধরে ইউনিয়নবাসীর জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি ।আমাদের ইউনিয়ন এখনও আল্লাহর রহমতে ভালো আছে। আমরা এ অবস্থা ধরে রাখতে চাই। তাই বাজার ব্যবসায়ী ও জনসাধারনকে সরকারের বেঁধে দেয়া আইন মেনে চলতে আহবান জানানো হয়েছে।

কখনও ফলের ডালা, কখনও ত্রাণসামগ্রীর প্যাকেট। হাসি ফোটাচ্ছেন একের পর এক গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে। শুধু নিজের ইউনিয়ন নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি ইউনিয়নে পড়েছে তার মানবিক সহায়তা।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাঈদ আহমেদ পলক এবং আমার ব্যক্তিগত তরফ থেকে ব্যাপক খাদ্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছ । সরকারী ত্রাণ এবং ঈদ উপহারের ২৫০০টাকা বিতরণে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি ।

করোনার ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাওয়া সম্মুখ সমরের যোদ্ধা জানান, বঙ্গবন্ধুর তাঁর আদর্শ আর অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে এবং আমার নেতা মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাঈদ আহমেদ পলকের পরামর্শে মানবেতর সেবায় নিয়োজিত রেখেছি ।

দিনশেষে সব কাজের পেছনে আমার একটাই উদ্দেশ্য থাকে, সেটা হলো আমার জানাজায় লোক সংখ্যা বাড়ানো-যোগ করেন জনগণের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ লুৎফল হাবিব রুবেল।

লেখক: নাসিম উদ্দীন নাসিম, সাংবাদিক, নাটোর