নিউজ ডেস্ক: নাটোরে একদিনে ৩১ জন করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুটি ফলোআপ রিপোর্ট রয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ২৪৪ জন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন আর সুস্থ হয়েছেন ৬৬ জন। ফলে রেড জোন ঘোষণার দ্বারপ্রাতে নাটোর। রেড জোন ঘোষণার শর্ত হলো ২০০ জন আক্রান্ত থাকতে হবে, নাটোরের আক্রান্ত ২৪৪ জন হলেও সুস্থ হয়েছেন ৬৬ জন। তবে আক্রান্ত দুইশত স্পর্শ করলে রেড জোন ঘোষণা হয়ে যাবে।

শনিবার (৪ জুন) ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটারি মেডিসিন এন্ড রিসার্স থেকে পাঠানো নমুনার রেজাল্টে ১৫ জন এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রামেক ল্যাবে ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নাটোর সিভিল সার্জন নিশ্চিত করেছেন। এই দুই ল্যাব থেকে পাওয়া প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সদর হাসপাতালসহ নাটোর সদরে ১৫ জন, গুরুদাসপুর উপজেলায় ৬, লালপুরে ৬, সিংড়ায় ১ ও বাগাতিপাড়ায় ১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

জানা গেছে, নাটোরে করোনা নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা প্রধান চিকিৎসক ডাক্তার রাজেশ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেই সাথে নাটোর সদর হাসপাতালের সাবেক আরএমও মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী ও বাড়ির কাজের মেয়ে করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

এছাড়া নাটোর শহরের চকরামপুরে একটি রাষ্ট্রীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, তার স্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত তার ছেলে-মেয়েসহ পুরো পরিবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া কান্দিভিটুয়ার ৩৮ বছর বয়সের এক ব্যক্তিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

নাটোর সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট হাফিজার রহমান ঢাকার ন্যাশনাল ল্যাব ও রামেক ল্যাব থেকে এসংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে জানান, শনিবার দুপুরে ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটারি মেডিসিন এন্ড রিসার্স থেকে মোট ১৬৮ জনের নমুনার রেজাল্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৫ জনের রেজাল্ট করোনা পজেটিভ এবং অবশিষ্ট ১১৩ জনের রেজাল্ট নেগেটিভ।

অপরদিকে রামেক ল্যাব থেকে পাঠানো করোনা পজেটিভদের মধ্যে গুরুদাসপুরে ৪ জন, লালপুরে ২জন, বাগাতিপাড়ায় ১ জন এবং নাটোর সদরে ৭ জন। এছাড়া সকালের তথ্য অনুযায়ী নাটোরে মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪২০০ এর মতো। ফলাফল প্রাপ্ত হয়েছে তিন হাজার পাঁচশত। নমুনা নষ্ট হয়েছে ১৪৮ টি।

রামেক ও ঢাকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট থেকে পাঠানো ৩১ জন করোনা সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোরের সিভির সার্জন ডাঃ মিজানুর রহমান জানান, ইত্যেমধ্যে নাটোর সদর হাপতালের অর্থোপেডিকস ডাক্তার তৈমুর রহমানসহ ৬৬ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।

এর আগে দুপুরের তথ্যানুযায়ী জানা গেছে, নলডাঙ্গা থানার ২ দারোগা ও এক গাড়ি চালক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২ দারোগার মধ্যে একজন সদ্য পুলিশে চাকরি শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া সিংড়া বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে লালপুরে ৪ জনের মধ্যে একজন হাসপাতালের পিয়ন। অন্য ৩ জনের মধ্যে একজন ঈশ্বরদী পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। আর একজন পাওড়া গ্রামের কৃষক। অপরজনের বাড়ি লালপুরের বিরোপাড়া গ্রামে।

এছাড়া গুরুদাসপুরে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি উপজেলার পলশুড়া কান্দিপাড়া গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। অপরজন ধারাবারিষা এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তা। তবে তিনি এলাকায় খুব কম সময় থাকেন বলে জানা গেছে।