এক যুগ পর জনস্বার্থে রাস্তা উন্মুক্ত করে দিলো মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। ছবি: রাজু আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদক: দীর্ঘ এক যুগ পর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার জনস্বার্থে খুলে দিলো রাস্তা। প্রতিবেশি প্রতিপক্ষের দ্বারা জমি দখল হয়রানি, মামলা, হামলা শিকার একটি পরিবার জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করেছিল অনেকটা জেদের বশের। পরে ১২ বছরেও কেউ কোনো সুরাহা করতে পারেনি। কোনো সালিস, বিচার করেও লাভ হয়নি। অবশেষে মানুষের স্বার্থে সে কাজটি সফল হল।

ছাতারদিঘী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শাজাহান আলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং সিংড়া মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি রাজু আহমেদসহ আরো কয়েকজনের পরামর্শ উন্মোচিত হলো ১ যুগের বন্ধ রাস্তাটি। সম্প্রতি রাস্তাটি খুলে দেন শহীদ পরিবারের সদস্য গোলাম মোস্তফা।

জানা যায়, নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের ভুলবাড়িয়া গ্রামে স্বাধিনতা যুদ্ধে তৎকালিন রাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় ঐ গ্রামের কিছু ব্যক্তি। এ সময় রাজাকারদের সহযোগিতায় শহীদ হয় দু’ভাই। এরপর থেকে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। কালের বিবর্তনে মুক্তিযুদ্ধ পরিবার কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এলাকার প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় মাথা চাড়া দেয়। এমনি ভাবে ঐ গ্রামের প্রতিবেশি আব্দুল মজিদ পরিবারের সাথে জমি নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অভিযোগ তাদের বসতভিটার ১১ শতাংশ জমির ৪ শতক দখল করে আব্দুল মজিদ পরিবার। তারপর একে একে হামলা, মামলা এবং হুমকির মুখে পরে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। গ্রাম্য বিচারে মানতে নারাজ প্রভাবশালী আব্দুল মজিদ পরিবার। যার কারণে দু’পরিবারের মধ্য দ্বন্দ্বে চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ে। দুটি পরিবারের মধ্য ছায়া দেখাও বন্ধ। এমনি ভাবে কেটে যায় ১২ বছর।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি শাজাহান আলী জানান, এই রাস্তাটা বহু পুরাতন রাস্তা ছিল।
কিন্তু শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাথে আব্দুল মজিদ পরিবারের দ্বন্দ্বের কারণে রাস্তাটি প্রায় ১ যুগ আগে বন্ধ হয়ে পড়ে। আমি সভাপতি নির্বাচিত হবার পর থেকেই ইচ্ছা ছিল গ্রামের মানুষের জন্য রাস্তাটা খোলা বিশেষ প্রয়োজন। সেই সাথে গ্রামের কিছু যুবসমাজের অনুরোধে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ছোট ছেলে গোলাম মোস্তফার সাথে কথা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে মোস্তফা রাস্তাটা খুলে দিতে রাজি হয়। ঈদুল আজহায় মোস্তফা বাড়ি এসে রাস্তাটা সকলের চলাফেরার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। গ্রামের মানুষের কথা ভেবে রাস্তাটা খুলে দেবার জন্য মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ছোট ছেলে মোস্তফাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

সিংড়া মডেল প্রেসক্লাব সভাপতি রাজু আহমেদ জানান, ৬ মাস আগে ঐ গ্রামে ঘুরতে ঘুরতে এই রাস্তা বন্ধ দেখে প্রতিবেশিদের প্রশ্ন করি। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাইনি। পরে লোকমুখে ঘটনা জানতে পারি। তারপর থেকে ঐ রাস্তা জনস্বার্থে খুলে দেবার জন্য মনস্থির করি। ঈদুল আজহার আগে কথা হয় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য গোলাম মোস্তফার সাথে। তাঁকে ঐ রাস্তা খুলে দেবার পরামর্শ প্রদান করি। ঈদের পর রাস্তাটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।