নিউজ ডেস্ক: ডিজিটাল যুগেও তাবিজ-কবজ নিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছে নাটোরের বড়াইগ্রামের সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে বিনা বেগম (৫০) নামে এক মহিলা কবিরাজের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন হাজারো মানুষ।

এর মধ্যে তদবীর দিতে যেয়ে ধরা পড়ে যাওযায় প্রতারণার শিকার এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিনা বেগম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের বোর্ণী গ্রামের লোকমান হোসেনের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিনা বেগম দীর্ঘ দিন যাবৎ সংসারে অশান্তি, স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ, বন্ধ্যাত্ব, পছন্দের মানুষকে পাইয়ে দেয়া, অবাধ্য সন্তানকে নিয়ন্ত্রণে আনা, প্যারালাইসিসসহ নানাবিধ সমস্যার সমাধান দিয়ে আসছিলেন। এ কাজে তার কাছে থাকা জ্বিন তাকে সহযোগিতা করে বলে তিনি রোগীদেরকে বোঝাতেন।

এসব ক্ষেত্রে তিনি প্রতারণার অংশ হিসাবে প্রতি শনি ও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে আসনে বসাতেন। এ সময় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যারা আসেন তাদের কারো বাড়িতে শত্রুতাবশত তাবিজ, কারো বাড়িতে শামুক বা গাছ পুঁতে রাখা আছে, এ কারণেই বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন বলে জানাতেন তিনি।

একই সাথে জ্বিনের সাহায্যে এসব তাবিজ বা গাছ তুলে এনে সমস্যার সমাধান করে দেয়ার আশ্বাসও দিতেন তিনি। এ জন্য তিনি এক হাজার ৭৮০ টাকা করে ফি নিতেন।

এরপর বাড়ি বন্ধ করার জন্য পাঁচ শ’ টাকা, তাবিজ দেয়ার জন্য তিন শ’ টাকা ও জনপ্রতি ২০ টাকা করে নজরানা ফি নেন। কিন্তু জ্বিনের মাধ্যমে তাবিজ কবজ তুলে আনার প্রতারনণার রহস্য ফাঁস হওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এর মধ্যে চিকিৎসা নিতে যাওয়া উপজেলার খোকশা গ্রামের নাসরিন বেগম জানান, আমি একটি বিষয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলাম। টাকার বিনিময়ে আমাকে একটি তাবিজ দেন, কিন্তু কোনো কাজ না হওয়ায় তাবিজ খুলে দেখি ভিতরে শুধু দু’টি শিমুলের বিচি।

এছাড়া দিঘলকান্দি গ্রামের শ্রাবন্তী খাতুন জানান, আমি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে লোকমুখে শুনে বিনা বেগমের কাছে চিকিৎসা নিতে যাই। এ সময় আমার বাড়িতে প্রতিপক্ষের পুঁতে রাখা তাবিজ তুলে দেয়া ও আমার শরীর বন্ধ করার তাবিজ বাবদ মোট দুই হাজার ৮০ টাকা নেন। কিন্তু কোনো রকম কাজ না হওয়ায় আমি তাবিজ খুলে দেখি তার ভিতরে কিছুই নেই, শুধু মোম দিয়ে আটকানো।

অন্যদিকে একই গ্রামের আজিজুল ইসলাম জানান, বিনা বেগমের চিকিৎসা পদ্বতিতে আমার মনে সন্দেহ হলে আমি তার আসন পদ্বতিটি গভীরভাবে খেয়াল করি। এ সময় দেখি যে, বিনা বেগম তার শাড়ীর আঁচলের মধ্যে লুকিয়ে রাখা একটি কৌটা থেকে তাবিজ, শামুক বা গাছের শিকড় উঠানে ছুঁড়ে দিচ্ছেন ও এগুলো রোগীদের বাড়ি থেকে কথিত জ্বিন উঠিয়ে এনে ফেলছে বলে জানাচ্ছেন। তখন বিষয়টি আমি হাতে নাতে ধরে ফেললে বিনা বেগম টাকা ও সঙ্গে থাকা কৌটা নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। আমার কাছে প্রতারণার পুরো ভিডিও ফুটেজ আছে।

এদিকে সরেজমিনে কথা বলার জন্য বিনা বেগমের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার স্বামী লোকমান হোসেন জনান, প্রতারণার বিষয়টি সঠিক নয়, তবে ঘটনার পর থেকে আমি তাকে ওই চিকিৎসা বন্ধ করতে বলেছি।

এ ব্যাপারে বড়াইগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, আমি মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তাদেরকে প্রতারণা বন্ধ করতে বলেছি। কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।