নিউজ ডেস্ক: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে গোটা ইউরোপজুড়ে। সংক্রমণ ঠেকাতে স্পেনে জরুরি অবস্থা ও কারফিউও জারি করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে বৈঠকের পর টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে এ ঘোষণা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি জানান, রাত থেকে এ পদক্ষেপ কার্যকর হবে, জরুরি অবস্থায় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ থাকবে। তবে ক্যানারি আইল্যান্ডকে এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এ জরুরি অবস্থা ছয় মাসের জন্য বাড়িয়ে আগামী মে পর্যন্ত রাখার বিষয়টি সংসদে তোলা হবে। খবর এপি, রয়টার্স

টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে ‘পরিস্থিতি চরম পর্যায়ের দিকে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, জরুরি অবস্থা জারির কারণে স্থানীয় প্রশাসন এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে লোকজনের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রথম দেশ স্পেনে সরকারি হিসাব মতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তবে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ৩০ লাখেরও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার স্পেনে নতুন করে ২০ হাজার জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং এ দিনে নতুন করে ২৩১ জনের মৃত্যুসহ মহামারিতে দেশটির মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ হাজার ৭৫২ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অপরদিকে চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনার প্রথম ধাক্কায় ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হচ্ছে স্পেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্পেনকে প্রথম থেকেই কঠোর লকডাউন জারি করতে হয়েছে যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি ছিল।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো স্পেনেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ফলে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যে রাত্রিকালীন কারফিউয়ের সময় একঘন্টা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগ থাকছে।