বিশেষ প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন নাটোরের বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন আলী (৪০) ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। করোনা সংক্রমণ রোধে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জীবন দিলেন তিনি। দেশ ও জনগণের সেবায় জীবন উৎসর্গ করে ত্যাগের এক অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাঃ সুমন আলী।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোররাতে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। সুমন আলী চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর কদমতলা এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে। একমাত্র মেয়ে সুপকা (৫) এবং স্ত্রী রাবেয়া জান্নাতকে নিয়ে ছিল তার সংসার।

জেলা পুলিশের সূত্র জানায়, করোনার সংকটকালীন সময়ে সাধারণ জনগণকে আইনি সেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর নাটোরে থেকে চিকিৎসা চলা অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হয়। এরপ্রেক্ষিতে তাকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাতে তার মৃত্যু হয়।

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন আলীর মৃত্যু এই অকাল মৃত্যুতে তার নিজ কর্মস্থল বড়াইগ্রাম ও পুলিশ বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ পিএএ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা, ওসি দিলিপ কুমার দাস, বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মিয়াজী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, বড়াইগ্রামে কোরবানির ঈদের আগে গরুভর্তি একটি ট্রাক ছিনতাই হয়। সেই ট্রাক উদ্ধারে সুমন আলী নারায়ণগঞ্জ গিয়েছিলন। ধারণা করা হচ্ছে সেখান থেকেই তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বড়াইগ্রাম হাসপাতালে দেয়া নমুনায় তার করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছিল।

এর আগে সুমন আলী ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বড়াইগ্রাম থানায় যোগদান করেন। তার মৃতদেহ নিজ এলাকা চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দাফন করা হবে।

কৃতজ্ঞতা: আরিফুল ইসলাম