নিউজ ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টার্চে দুটি মসজিদে জুমার সময় এলোপাতাড়ি গুলি করে ৫১ মুসল্লিকে হত্যার দায়ে সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাজার রায়ে এই ঘৃণ্য অপরাধীর জন্য কোনো প্যারোলের সুযোগ রাখা হয়নি। যা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে প্রথম।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। এর আগে ২৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ব্রেনটন ট্যারেন্ট ৫১ জনকে হত্যা ও আরও ৪০ জনকে হত্যাচেষ্টা এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন।

বিচারক তার কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বর’ উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনি (ব্রেনটন) কোনো সহানুভূতি দেখাননি।’

গত বছরের ১৫ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর এবং লিন্ডউড মসজিদে হামলা চালান ব্রেনটন। তিনি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি ছুড়ে এ হত্যাযজ্ঞ চালান, যা ৫১ জনের প্রাণ কেড়ে নেয়। হামলার সম্পূর্ণ ঘটনা ফেসবুকের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন তিনি, যা গোটা বিশ্বকে হতবাক করে দেয়।

বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চ আদালতের বিচারক ক্যামেরন ম্যানডের বলেন, ‘ব্রেনটনের অপরাধ এতই জঘন্য যে আমৃত্যু কারাগারে থাকলেও তার শাস্তি যথেষ্ট হবে না।’

তবে আমৃত্যু কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো মন্তব্য করেননি হামলাকারী শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ব্রেনটন। এর আগেই ব্রেনটন জানিয়েছেন, আদালতে তিনি কোনো কথা বলবেন না।

এর আগে এই ২৯ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় জুমার সময় মুসল্লিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালালে আল-নূর মসজিদের ৪৪ মুসল্লি ও কয়েক মাইল দূরের লিনইউড মসজিদের সাত মুসল্লি নিহত হন।

যাদের সে হত্যা করেছে, তাদের মধ্যে তিন বছর বয়সী শিশুও ছিল। হত্যাকাণ্ডে পাঁচটি অস্ত্র ব্যবহার করেছে ট্যারেন্ট। যা সে বৈধভাবেই কিনেছে। নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে আর কখনো এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।

এই ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডের বন্দুক আইন সংশোধন করা হয়েছে। এতে বেসামরিক লোকদের জন্য আধাস্বয়ংক্রিয় অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর ৫৬ হাজার ২৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র ক্রেতাদের কাছ থেকে ফেরত নেয়া হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ট্যারেন্ট নিজের নৃশংসতা দেখাতে চেয়েছে। যে কারণে মসজিদে গুলি চালিয়ে সে যখন নিরাপদ মানুষের রক্তের বন্যা বইয়ে দিচ্ছিল, তখন সে তা সরাসরি ফেসবুকে সম্প্রচার করেছে।