নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অনেকে ভুলে গেছে যে, খালেদা জিয়া ২০০১ সালে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে জাতির পিতার ৪৫তম শাহাদৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় দলের সভাপতি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের সাহায্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউ) মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে যোগদান করেন। খবর বাসস

তিনি আরো বলেন, জিয়া ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স দিয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের যেমন রক্ষাকবচ দিয়েছিল তেমনি খালেদা জিয়াও অপারেশন ক্লিনহার্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ শত শত মানুষ হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তাঁর স্বামী যা করেছে (সাবেক সেনাশাসক জিয়া) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি, আর সে এসে (খালেদা জিয়া) নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে তাদের ইনডেমনিটি দিয়ে গেছে।’

শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেন, ওই সময় আওয়ামী লীগের রিচার্স সেন্টার দখল, বই-পত্র, ৩শ’ ফাইল, কম্পিউটার হার্ডডিস্ক এবং নগদ টাকা লোপাটসহ রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে তিনি বলেন, ‘সেই হত্যার বিচার হবে না-এই ইনডেমনিটিও খালেদা জিয়া দিয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু তাই নয়, ‘যে পাশা (বঙ্গবন্ধুর খুনী) মৃত্যুবরণ করেছে তাকে প্রমোশন দিয়ে তার সমস্ত টাকা-পয়সা স্ত্রীকে দেয়া হয়েছে। যে খায়রুজ্জামানের (অপর খুনী) চাকরী চলে গিয়েছিল কিন্তু খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরীতে পুণর্বহাল করে এবং প্রমোশন দেয়।’

জিয়ার সময়ে সংঘটিত ১৯টি ক্যু’র কারণে অফিসার ও সৈনিক হত্যার প্রসংঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আমাদের সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনী। বিমান বাহিনীর ৬৬৫ জনকে আর সেনা বাহিনীর দুই থেকে আড়াই হাজার জনকে হত্যা করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘কেউ বলতে পারতো না কে বেঁচে থাকবে আর কে কখন মৃত্যুবরণ করবে। এরকম একটা ত্রাসের রাজত্ব তারা কায়েম করেছিল। ঠিক তার (জিয়া) স্ত্রী (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় এসেও একই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীর যত মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ছিল তাঁদেরকে একে একে হত্যা করেছে। হাজার হাজার অফিসার এবং সৈনিককে নির্বিচারে হত্যা করেছে। কাউকে কোর্ট মার্শাল দিয়েছে, কাউকে গুলি করে হত্যা করেছে।’

শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর হত্যার অভিযোগে জিয়াকে পুনরায় অভিযুক্ত করে বলেন, ১৯৮০ সালে লন্ডনে হাউস অব কমন্স সদস্য স্যার টমাস ইউলিয়াম কিউসি এবং শ্যন ম্যাকব্রাইটকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ তদন্তে গঠিত কমিশনকে এদেশে আসার ভিসা না দিয়ে এবং খুনীদের ইনডেমনিটির মাধ্যমে দায়মুক্তি প্রদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরী দেওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, সে এই হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল। শুধু তাই নয়, বিবিসিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক এবং রশিদ ও জিয়ার জড়িত থাকার উল্লেখ করেছিল।