নিউজ ডেস্ক: মানবিক এক অভিযানে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রাত (ভোর) আনুমানিক ৪ টার দিকে গভীর চলনবিল থেকে ৪০ পর্যটককে উদ্ধার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ। পর্যটক দলটি নওগাঁ থেকে চলনবিল বেড়াতে এসে গভীর রাতে পথ হারিয়ে গভীর চলনবিনে চলে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নাটোর জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬ আগস্ট নওগাঁ থেকে ৪০ জনের একটি দল (যার মধ্যে ৫ জন শিশু, ১২ জন মহিলা ও ২৩ জন পুরুষ) চলনবিলের তাড়াশ, গুরুদাসপুরের বিলসা বিল বেড়ানো শেষে সিংড়ার তিশিখালী মাজারে নৌকাযোগে সন্ধ্যা সোয়া নয় ঘটিকায় পৌঁছেন। পরে আনুমানিক রাত সাড়ে ১০ টায় নৌকাযোগে আত্রাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা করেন।

উক্ত ৪০ জনের দলটি প্রায় তাদের নৌকাযোগে ৩ ঘন্টা পথ অতিক্রম করার পর তারা বুঝতে পারে তাদের পথ হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু চলনবিলের মধ্যে তারা তাদের দিক কিংবা অবস্থান বুঝতে পারেন না । তারা প্রকৃতপক্ষে কোন জায়গায় অবস্থান করছে কিংবা কোন দিকে যেতে হবে তারা তা বুঝতে পারছিলেন না। মূলত তারা ৪০ জন চলনবিলের মধ্যে হারিয়ে যায়।

গতকাল (বুধবার) দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলছিল। চলনবিল এলাকাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। সাঁ সাঁ শব্দ হচ্ছিল। বড় বড় পানির ঢেউ, কোথাও কোন বাড়ি ঘর নেই, নেই কোন আলো, জীবন ঝুঁকির সম্মুখে, নেই কোন দিক, ভেবেই নিয়েছিল তারা এ বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারবে না।

তাদের মধ্য থেকে পিয়াস সরকার ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন করেন। ‘৯৯৯’ থেকে তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা তাদের অবস্থান কোনভাবেই বলতে পারছিলেন না। পরে ‘৯৯৯’ হতে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ নূর-এ-আলম সিদ্দিকীকে ফোন দেয়া হয়।

সিংড়া থানা অফিসার ইনজার্জ নূর-এ-আলম সিদ্দিকী বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশ সুপার, নাটোরকে অবগত করে। পরে পুলিশ সুপার, নাটোরের নির্দেশক্রমে রাত দেড় টায় সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে সিংড়া ও গুরুদাসপুর থানা পুলিশের ৫ টি টিম কাজ শুরু করে।

উদ্ধার অভিযানটি সার্বক্ষণিক বিষয়টি মনিটরিং করেন এবং পিয়াস সরকারের সাথে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা। পিয়াস সরকার পুলিশ সুপারকে জানায় যে, সাঁ সাঁ শব্দ হচ্ছে, বড় বড় পানির ঢেউ, কোথাও কোন বাড়ি ঘর নেই, নেই কোন আলো, তাদের জীবন ঝুঁকির সম্মুখে, তারা কোন দিক খুঁজে পাচ্ছেন না।

আধুনিক প্রযুক্তি ও এলআইসি, ঢাকার সহায়তায় কলকৃত ব্যক্তির রাতে একটা ৩৪ মিনিটে অবস্থান জানা যায়, সিংড়ার বিলদহর এলাকায়। সেখানে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি। পুনঃরায় রাত পৌনে দুইটায় কলকৃত ব্যক্তির অবস্থান জানা যায় গুরুদাসপুর থানার যোগেন্দ্রনগর এলাকায়। সিংড়া ও গুরুদাসপুর থানা পুলিশের ৫ টি টিম অবশেষে রাত ৪ টায় তাদের সন্ধান পায়।

পর্যটক দলটি কখনো ভাবেনি অজানা গভীর বিল থেকে তাদের এতো দ্রুত সন্ধান করে পুলিশ সঠিক পথ দেখিয়ে দিবে। পরবর্তীতে সিংড়া থানা পুলিশ তারেদরকে আত্রাই সীমানা পর্যন্ত রেখে আসেন। গভীর রাতে দুঃসাহসী অভিযানে নাটোর জেলা পুলিশের মানবিক উদ্ধার কাজের প্রশংসা করেছেন সচেতন মহল।