নিজস্ব প্রতিবেদক: গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের যাচাই বাছাই ও মনোনয়ন নিয়ে বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দল দেখা দিয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের চরম জালিয়াতি ও ভূয়া তালিকার প্রতিবাদে কথিত বর্ধিত সভা বর্জন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে গুরুদাসপুর আওয়ামী লীগের একাংশ।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১০টায় উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড পর্যায়ের ডেলিগেটদের সরাসরি ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই চলাকালে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল সৃষ্টি হয়।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় অফিসের লিখিত নির্দেশ মোতাবেক গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সেই মোতাবেক মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী ৬জন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ১০ জন ও মহিল ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী পদে ৩ জন।

এদিকে, গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বুধবার বেলা ১১টায় চাঁচকৈড় মুক্ত মঞ্চে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মো. শাহনেওয়াজ আলী সমর্থিত নেতাকর্মী ও ডেলিগেটদের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যানারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের নাম থাকলেও সংসদ অধিবেশনের কারণে তিনি উপস্থিত নেই বলে জানিয়েছেন আয়োজক নেতারা।

জানা গেছে, বর্ধিত সভায় আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সম্ভাব্য উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম ও নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আইয়ুব আলী এবং ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান আলী শাহ ও মিজানুর রহমান সুজা, ছাত্রলীগ নেতা আতিকুল ইসলাম ভুলু, যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী, শহিদুল ইসলামসহ ৮জন প্রার্থী আওয়ামী লীগ ডেলিগেটদের সামনে পরিচিতির মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।

বর্ধিত সভার এক পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান জনসম্মুখে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সরকার এমদাদুল হক মোহাম্মদ আলী, মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. আইয়ুব আলীর নাম ঘোষণা করেন। আর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে শাহিদা আক্তার মিতা, বানেছা পারভিন ও মতিয়া পারভিনের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় চুড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

অপরদিকে মনোনয়ন ফরম উত্তোলনকারীদের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল কুদ্দুস সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন, আহম্মদ আলী ও রেজাউল করিম সবুজ, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আলাল শেখ, আব্দুর রহিম, আমিরুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মতিয়া বেগম ও বানেছা পারভিনসহ ৯ জন ওই নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি এবং নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে ভূয়া তালিকার অভিযোগ এনে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা কলেজের সামনের গেটে ও অডিটোরিয়ামে ওই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রাজকুমার কাশী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক মোজাম্মেল হক, মশিন্দা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ধারাবারিষা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, চাপিলা ইউপি চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন ভুট্টু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আহম্মদ আলী, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন, গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিপ্লব ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সবুজ, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আলাল শেখ, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাসরিন সুলতানা রুমা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিয়ার রহমান বাঁধন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করে অভিযোগ করে পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের উপজেলা আ.লীগ, ইউনিয়ন আ.লীগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড আ.লীগের ত্যাগি, নির্যাতিত নেতাদের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ভূয়া তালিকা করে নির্বাচন করছে। তাই আমরা গুরুদাসপুর পৌর আ.লীগ ও ইউনিয়ন আ.লীগের নেতাকর্মীরা এই সভা বর্জন করলাম।