বিশেষ প্রতিবেদক: সপ্তাহখানেক আগে হাজেরা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশানে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে গুরুদাসপুরের ক্লিনিকগুলোতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে হাজেরা ক্লিনিকে মোবাইল টিম গেলে বেড কম দেখাতে রোগীসহ কয়েকটি ওয়ার্ড তালাবদ্ধ করে রাখে হাজেরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া গুরুদাসপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু রাসেল বন্ধ রাখা ওয়ার্ডগুলোর তালা খুলে ভর্তি থাকা প্রসূতি রোগী দেখতে পান।

অভিযানে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, কাগজপত্র অনুযায়ী হাজেরা ক্লিনিকে ১০টি বেড থাকার কথা। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ নিয়ম না মেনে ২২টি বেড রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। অভিযানের সময় মোবাইল কোর্টের কাছে ২২টির মধ্যে ১২টি বেড গোপন রাখা হয়।

তিনি আরো জানান, হাজেরা ক্লিনিক ছাড়াও বেশ কয়েকটি ক্লিনিকের বিভিন্ন অনিয়ম থাকায় পৌর সদরের হাজেরা ক্লিনিকের মালিককে ২ লাখ, চাঁচকৈড় বাজারের আল্পনা ক্লিনিকের মালিককে ১ লাখ, চলনবিল ক্লিনিককের মালিককে ৫০ হাজার টাকা, তানিয়া রাইন ক্লিনিকে ৭৫ হাজার টাকা এবং চাঁচকৈড় বাজারের সরকার ফার্মেসির মালিক নাজমুল হাসানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রাসেল বলেন, গুরুদাসপুরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে (ক্লিনিক) নানা অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে ক্লিনিকগুলোতে এ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসক, আবাসিক চিকিৎসক, উপযুক্ত প্যাথলজিস্ট নেই। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারসহ সার্বিক পরিস্থিতি চিকিৎসা সেবার অনুপযোগী হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এসব জরিমানা আদায় করা হয়।

কৃতজ্ঞতা: মো. আখলাকুজ্জামান