নিজস্ব প্রতিবেদক: গুরুদাসপুরে আবুল কালাম বিশ্বাস নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শহিদুল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গুরুদাসপুর থানার ওসি সেলিম রেজা লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর নদিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে লাশ ও খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আবুল কালাম নাজিরপুর নতুনপাড়া মহল্লার মৃত কালু বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর নদিয়াপাড়া গ্রামের ঘটনাস্থল থেকে লাশ ও খুনে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে সারারাত আর বাড়ি ফেরেননি নিহত আবুল কালাম বিশ্বাস। স্থানীয়রা সকালে ওই গ্রামের মোকাম আলীর লিচু বাগানে ঝুলন্ত ওই লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

নিহত কালাম বিশ্বাসের ভাই আবদুল মজিদ দাবি করেন, শুকুর আলী, আ. মালেক, শহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও খলিলুর রহমান তার ভাইকে হত্যা করে মোকাম আলীর লিচুগাছের ডালে ঝুলিয়ে রেখেছে।

আবদুল মজিদ আরো জানান, সুদের ব্যবসা নিয়ে এলাকার শুকুর আলী, আ. মালেক, শহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার ভাইয়ের ঝামেলা চলছিল। তার ভাইকে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে তারা।

গুরুদাসপুর থানার উপ-পরিদর্শক ময়েজ উদ্দিন জানান, সোমবার রাতে কে বা কারা আবুল কালামকে ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাতে সে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। রাতে অনেক জায়গায় খোঁজাখুজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে তার ব্যবহৃত ফোনে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।পরে মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির কাছে একটি লিচুবাগানের গাছের সাথে বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় কালামের মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

গুরুদাসপুর থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধে তাকে হত্যা করা হতে পারে। এ ঘটনায় শহিদুল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।