নিজস্ব প্রতিবেদক: গুরুদাসপুর উপজেলার ৫৪নং নারিবাড়ী মোজাম্মেল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলের অ্যাসেম্বলির মাঠে রাখা হয়েছে সড়ক নির্মাণ করার জন্য পাথর, বিটুমিন, প্লান্ট, মেশিন, খোয়া মেশানোর যন্ত্র এবং পিচ গলানোর জন্য রয়েছে অন্তত ১০টি চুলা, পাথর, খোয়া, বিটুমিন, ড্রামসহ অনেক মালামাল। বিটুমিন জ্বালানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে টায়ার। যখন চুলা জ্বালানো হয় তখন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার ও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস আগে একটি একটি করে উপকরণ মাঠে রাখা হয় ও ১৩ মার্চ থেকে উপকরণগুলো প্রক্রিয়াকরণ শুরু করা হয়েছে এবং গত তিনদিন যাবৎ ড্রামে জ্বলছে বিটুমিন। এসব বিটুমিন জ্বালানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে টায়ার। যখন চুলা জ্বালানো হয় তখন কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকারের মতো মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। তার কারণে শিক্ষার্থীদের মাঠ দিয়ে স্কুলে আসা তো দূরের কথা শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রথম দিন যখন চুলা জ্বালানো হয় তখন কজন শিশু শিক্ষার্থী বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপর তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। এবং স্কুল চলাকালীন সময়ে বিটুমিন গলানো হয়। তাতে কালো ধোঁয়া ওঠে। তাছাড়া খোঁয়া মেশানোর যন্ত্র থেকে শব্দ ছড়াচ্ছে। মাঠে পাথর, বিটুমিন, খোয়া মেশানো যন্ত্র রাখায় বিদ্যালয়ে যাতায়াত সমস্যা হচ্ছে। এবং স্কুলের একটি রুমও তারা ব্যবহার করছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের নাক বন্ধ হয়ে আসছে। আমরা দুই-তিন বার বমিও করেছিলাম। অনেক কষ্ট করে আজকে স্কুলে আসছি। কালকে থেকে আর আসবো না।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেরিনা বি. হক জানান, প্রথমেই ঠিকাদারকে নিষেধ করা হয়েছিল। তারা শোনেনি। গত দুদিন আগে যখন তাদের কাজ শুরু হলো এবং চুলা জ্বালালো তখন থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এবং তৎক্ষণাত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি অবগত করলে তিনিও নির্মাণ সামগ্রী মাঠে না রাখার নির্দেশ দেন।

তিনি আরো বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বাধা না মেনেই স্কুল মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রেখে কাজ শুরু করেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং কালো ধোঁয়া আর ধুলা থেকে রক্ষা পেতে শ্রেণি কক্ষের সামনে দিয়ে পেপার টাঙানো হয়েছে।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. দুলাল হোসেন বলেন, আমি তাদের নিষেধ করেছি অনেকবার। তার পরও তারা আমাদের নিষেধ অমান্য করে স্কুল মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রেখে কাজ শুরু করেছে।

গুরুদাসপুর উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নারিবাড়ী বাঁধ বাজার পর্যন্ত এক হাজার ২ শ মিটার রাস্তার পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
অন্যত্র কোনো জায়গা না থাকার কারণে ওই জায়গাটা বেছে নেয়া হয়েছে। তার পরও ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া আছে স্কুলের যেন কোনো সমস্যা না হয় দেখেশুনে কাজ করার জন্যে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. রোকন মুঠোফনে বলেন, স্কুল মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার সময় আমাকে কেউ নিষেধ করেনি। তাছাড়া আশপাশে জায়গা না থাকার কারণে
বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালামাল স্কুল মাঠে না রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনেই স্কুল মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রেখে কাজ শুরু করেছে। স্কুলে নির্মাণ সামগ্রী রাখার কারণে ও তাদের চুলা জ্বালানোর কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।