বিশেষ প্রতিবেদক: নাটোরের গুরুদাসপুরে হাজরা ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় (সিজার অপারেশন) রত্না খাতুন নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর থেকে ক্লিনিকের চিকিৎসক ডাঃ আমিনুল ইসলাম সোহেল পলাতক রয়েছেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার খামারনাচকৈড় এলাকার এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত রত্না খাতুন উপজেলার মশিন্দা মাঝপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তবে নিহত রত্না খাতুনের সদ্য ভূমিষ্ট সন্তান সুস্থ রয়েছেন। নিহত রত্নার স্বজনদের অভিযোগ রোগীকে সিজার করার সময় ভুল চিকিৎসায় মেরে ফেলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহত রত্নার স্বামী মনিরুল ইসলাম জানান, গতকাল (শনিবার) রাতে তার সন্তান সম্ভবা স্ত্রী রত্না খাতুনকে হাজরা ক্লিনিকে আমিনুল ইসলাম সোহেলের তত্বাবধানে ভর্তি করেন। পরে আজ (রোববার) সকালে তার স্ত্রীকে অস্ত্রপচারের (সিজার) জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, প্রায় এক ঘন্টার পর রোগীর স্বজনদের কিছু ঔষধ কিনে আনার জন্য বাহিরে পাঠিয়ে দেয় ক্লিনিকের নার্স ও অন্য লোকজন। পরে ঔষধ নিয়ে ক্লিনিকে আসলে দেখতে পায় তার স্ত্রীকে একটি এ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হয়েছে। এসময় বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলেন রোগীর অবস্থা ভালো না তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী নিতে হবে।

কিন্তু রোগীর স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় চিকিৎসক ডাঃ আমিনুল ইসলাম সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ক্লিনিকের মালিক ডা. আমিনুল ইসলাম সোহেল বলেন, অত্যধিক খিচুনির ফলে প্রসূতি রত্নার মৃত্যু হয়েছে। তবে সিজার করা বাচ্চাটি সুস্থ আছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই ক্লিনিকটিতে অজ্ঞানকারী কোনো ডাক্তার নেই। তাছাড়া রোগীর ফিটনেস ছিলনা। এভাবে অপারেশন করলে অধিকাংশ রোগীই মারা যায়। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে হাজেরা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দুপুরের দিকে থানায় সালিসী বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসার জোর তৎপরতা চালানো হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

কৃতজ্ঞতা: মো. আখলাকুজ্জামান