নিউজ ডেস্ক: নাটোরের গুরুদাসপুরের সাদিয়া ইসলাম শিমু নামের শিকলবন্দী এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সাথে স্কুলছাত্রীর পিতা সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম।

রোববার (২৭ জুন) সকালে মেয়ে সাদিয়া ইসলাম শিমুর করা মামলায় বাবা সাইফুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক মুক্তা পারভীন। এর আগে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টায় ঘটনাস্থলে পৌছে ওই মেয়েকে শিকলবন্দী থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ।

জানা গেছে, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের মোঃ সাইফুল ইসলামের বড় মেয়ে ও নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম শিমু পরিবারের অজান্তে একটি ছেলের সাথে পালিয়ে বিয়ে করার অপরাধে প্রায় এক মাস যাবৎ তাকে শারিরীক নির্যাতন চালিয়ে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছিল।

ভুক্তভুগী মেয়ে সাদিয়া ইসলাম শিমু জানান, প্রায় ৫ বছর যাবৎ প্রতিবেশি বকুল মন্ডলের ছেলে মাসুদ রানার সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল তার। এর মধ্যে তারা দুইজন তিন মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। তারপর তার বাবা অপহরণ মামলা করলে পুলিশ গিয়ে ঢাকা থেকে তাদের আটক করে নিয়ে আসে। তার স্বামী মাসুদ রানা ও শশুড় বকুল মন্ডলকে আটক করে নাটোর জেল হাজতে প্রেরণ করে। আদালতের নির্দেশে তাকে তার বাবার হেফাজতে শর্ত সাপেক্ষে হস্তান্তর করা হয়। কোন রকম চাপ সৃষ্টি কিংবা নির্যাতন যেন না করা হয় আদালতের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তাকে তার বাবা বাড়িতে নিয়ে এসে শিকলেবন্দী করে শারিরিক নির্যাতন চালায়। পরে শনিবার রাতে পুলিশ গিয়ে তাকে তার বাসা থেকে উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম (ওসি) জানান, বাড়ির একটি কক্ষে সাদিয়া ইসলাম শিমুকে তার হাত ও পায়ে শিকলবন্দী অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানেই তার হাত ও পায়ের শিকল খুলে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। একই সাথে মেয়ের বাবা সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।

তিনি আরো জানান, রোববার সকালে মেয়ের করা মামলায় সাইফুল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে সাদিয়া ইসলাম শিমুকেও আদালতে প্রেরণ করা হয়। পরে আদালত সাদিয়া ইসলাম শিমুকে নিরাপত্তা হেফাজতে ও তার বাবা সাইফুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।