নিজস্ব প্রতিবেদক: গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের ৪৩ নম্বর বৃ-চাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গুরা খাতুন নামের এক শিক্ষিকা তার স্বামীকে বিদ্যালয়ে ডেকে এনে সহকর্মী শিক্ষককে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকের সামনে মারধর করিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (২৮ এপ্রিল) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক সোহেল রানা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে শিক্ষক আঙ্গুরা খাতুন ও তার স্বামী মোস্তফা হোসেনের নাম উল্লেখ হয়েছে। ইউএনও মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, চাপিলা ইউনিয়নের ৪৩ নম্বর বৃ-চাপিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোহেল রানার সঙ্গে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষিকা আঙ্গুরা খাতুনের সঙ্গে বিতণ্ডা হলে ক্ষুব্ধ হয়ে এই কাণ্ড ঘটান শিক্ষিকা আঙ্গুরা খাতুন।

শিক্ষক সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তার সহকর্মী শিক্ষক আঙ্গুরা খাতুন নির্ধারিত সময়ের পরে এসে হাজিরা খাতায় সময় ঠিক রেখে সই করেন। তিনি এর প্রতিবাদ করায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হন সহকর্মী। সর্বশেষ গত শনিবার বেলা দুইটার দিকে আঙ্গুরা তার স্বামী মোস্তফা হোসেনকে বিদ্যালয়ে ডেকে এনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকেরা উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তাকে ডেকে মারধর করা হয়।

এব্যাপারে শিক্ষিকার স্বামী মো. মোস্তাফা হোসেন বলেন, মাথা ঠিক ছিল না। তাই ঘটনাটি ঘটেছে। এ জন্য অনুতপ্ত আমি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপসের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল গফুর মুঠোফোনে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটেছে। এটা দুঃখজনক।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি মো. মহাসিন আলী বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতেই ঘটনাটি ঘটেছে। এটা শিক্ষক ও আমার জন্য লজ্জাজনক। কমিটির সভা ডেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাটি দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।