নিজস্ব প্রতিবেদক: গুরুদাসপুরে স্ত্রীর হাতে পুরুষাঙ্গ কেটে খুন হয়েছেন স্বামী কাবিল হোসেন। নিহত কাবিল হোসেন পাবনার চাটমোহর এলাকার বাসিন্দা।ঘটনায় স্ত্রী রুবি খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার মশিন্দা মাছপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। মধ্য রাতে কোন এক সময় স্ত্রী রুবি খাতুন স্বামী কাবিল হোসেন (২২) এর পুরুষাঙ্গ কর্তন করলে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।

রুবি খাতুনের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৪ মাস পূর্বে কাবিল হোসেনের সাথে ও রুবি খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই কাবিল হোসেন যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে স্ত্রীর ওপর যৌন নির্যাতন চালাতে থাকে। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত দুই সপ্তাহ আগে রুবি খাতুন তার বাবার বাড়িতে চলে আসে। শুক্রবার কাবিল হোসেন মাশিন্দা মাঝপাড়া গ্রামে শ্বশুর বাড়ীতে আসেন। রাতে পুনরায় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট খেয়ে যৌন নির্যাতন শুরু করলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। এর একপর্যায়ে ভোরে স্ত্রী রুবি খাতুন ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্বামী কাবিল বিশ্বাসের পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই কাবিল হোসেনের মৃত্যু হয়।

স্ত্রী রুবি খাতুন জানান, অতিরিক্ত যৌন নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি স্বামী কাবিল বিশ্বাসের যৌনাঙ্গ কর্তন করেছেন।

গুরুদাসপুর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্রে কাবিল হোসেনের সাথে প্রেম করে ৪ মাস আগে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে হয় গুরুদাসপুর উপজেলার মসিন্দা গ্রামের রুবি খাতুনের। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এ কারণে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যায়।গতকাল কাবিল তার শ্বশুর বাড়িতে যায় স্ত্রীকে আনতে। রাতে স্ত্রীর সাথে তার কলহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্ত্রী বটি দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দিলে ঘটনাস্থলেই কাবিলের মৃত্যু হয়।পরে সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘এঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুবি খাতুনকে আটক করে থানায় নিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’