নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১৫ দিন ধরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে শহিদুল্লাহ মিয়া (৪৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালতে সেই ছাত্রের ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এর আগে রোববার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকার মারকাযুল কোরআন কওমি মাদরাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম শহিদুল্লাহ (৪৫)। তিনি চাঁদপুর জেলার উত্তর ইচলী এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তার বব্দুশী’র ছেলে এবং সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পাইনাদী নতুন মহল্লা এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল কোরআন কওমী মাদরাসার শিক্ষক। এর আগেও এই শিক্ষক এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছিল। যা ধামাচাপা দেয় মাদরাসার প্রধান।

বলাৎকারের শিকার ১১ বছরের মাদরাসাছাত্রের পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ দিন ধরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মাদরাসার শিক্ষক শহিদুল্লাহ তাকে বলাৎকার করে আসছে। ব্যথা কমাতে ছাত্রটিকে ব্যথানাশক ওষুধও সেবন করায় ওই শিক্ষক। ছাত্রটি মাদরাসা থেকে বাসায় চলে যেতে চাইলে তাকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। রোববার সুযোগ পেয়ে ছাত্রটি মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাসায় গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলা দায়ের করেছেন শিশুটির ফুফু। পরে পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষককে আটক করার পর তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলাৎকারের বিষয় স্বীকারও করেছেন। জবানবন্দি গ্রহণের পাশাপাশি একই দিন অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।