নিউজ ডেস্ক: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর একাই হামলা চালিয়েছিল তারই অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মচারী (মালি) রবিউল ইসলাম।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) আদালতে রবিউলের ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

জবানবন্দিতে রবিউল জানান ক্ষোভ থেকেই তিনি একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনিই একমাত্র পরিকল্পানাকারী; একাই হামলায় অংশ নিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। এর আগে সকাল ১০টার দিকে রবিউল ইসলামকে আদালতে নেয় পুলিশ।

এর আগে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন, ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল ইসলাম, রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম, সান্টু কুমার দাস, ইউএনওর বাসভবনের নৈশ্যপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশ এবং ইউএনও অফিসের সাময়িক বরখাস্তকৃত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (মালি) রবিউল ইসলাম।

আসামির মধ্যে সর্বশেষ গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলামকে গত ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করে ছয় দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ছয় দিনের দিনের রিমান্ড শেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আদালতে তাকে হাজির করা হয়। সেদিন দীর্ঘ সাত ঘণ্টা আদালতে রেখেও রবিউল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেয়ায় দ্বিতীয় দফায় তাকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে আজ (রোববার) আদালতে হাজির করা হলে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রবিউল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড়ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানা থেকে স্থানান্তর করে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।