নিউজ ডেস্ক: নোয়াখালীর চাটখিলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া সেই যুবলীগ নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইয়াসিন বাজারসংলগ্ন ওয়াতির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তার তথ্যমতে তার বসতঘর থেকে একটি অস্ত্র, দুই রাউন্ড গুলি, বিয়ারের খালি বোতল, পাঁচ মোবাইল, এক প্যাকেট কনডম ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

ধর্ষক মজিবুর রহমান শরীফ (৩২) চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ওয়াতির বাড়ির রফিকুল ইসলাম খোকনের ছেলে এবং নোয়াখলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। শরীফের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ধর্ষণসহ ৮টি মামলা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আটক শরীফকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইয়াছিন বাজার সংলগ্ন ওয়াতির বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার তথ্যমতে বসতঘর থেকে একটি অস্ত্র, দুই রাউন্ড গুলি, বিয়ারের খালি বোতল, পাঁচটি মোবাইল ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শরীফের বিরুদ্ধে চাটখিল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালীতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত চাচিকে ধর্ষণ ও অশ্লীল ছবি তোলার অভিযোগে মজিবুর রহমান শরীফ নামে এক লম্পট ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাটখিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দুলাল মিয়া।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে নোয়াখলা ইউপির ইয়াছিন বাজার থেকে শরীফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে অস্ত্রের কথা স্বীকার করে। তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার নারী।

এ ব্যাপারে ধর্ষণের শিকার নারী জানান, ভোরে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। ওই সময় শরীফ কৌশলে তার ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে এবং উলঙ্গ করে মোবাইলে ছবি-ভিডিও ধারণ করে পালিয়ে যায়। শরীফ তার ভাসুরের ছেলে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর দুই শিশুসন্তানের সামনে এই বর্বরতা চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্ত যুবকের কয়েকজন সশস্ত্র ক্যাডার ঘরের চারপাশে পাহারা দেয়। তাদের ভয়ে ঘরের ভেতর যেতে সাহস পায়নি বাড়ির লোকজন। পরে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

এদিকে চাটখিলে অভিযুক্ত শরীফের বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অনেক মামলা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তাঁকে এত দিন গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ হলে উপজেলা যুবলীগের একাংশ তাঁর পক্ষ নিয়ে চাটখিলে মানববন্ধন করে এর প্রতিবাদ জানায়। শরীফ ও তাঁর ‘বাহিনীর’ সদস্যদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে নোয়াখোলা ইউনিয়নসহ চাটখিল দক্ষিণ অঞ্চলের এলাকাবাসী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চাটখিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দুলাল মিয়া বলেন, এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার নারী মামলা করেছেন। দুপুরে অভিযান চালিয়ে নোয়াখলা ইউপির ইয়াছিন বাজার থেকে শরীফকে গ্রেফতার করা হয়েছে।