নিউজ ডেস্ক: গত সোমবার রাতে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীনা সেনার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করল সংবাদ সংস্থা এএনআই। একই সঙ্গে ৪৩ জন চীনা সেনার মৃত্যু অথবা গুরুতরভাবে আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে ওই সংবাদ সংস্থা।

গতকালের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে ভারত ইতিমধ্যই জানিয়েছে, ‘উপত্যকায় উত্তেজনা হ্রাসের প্রক্রিয়ার মধ্যেই গতকাল রাতে চিনের এক তরফা পদক্ষেপের ফলে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। যার ফলে মৃত্যুও হয়েছে’।

ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানান, ‘ভারত খুব স্পষ্ট ভাবেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার মধ্যেই বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আমরা চিনা পক্ষেরও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি’।

অন্য দিকে চিন দাবি করেছে, ‘ভারতীয় সেনা সীমান্ত পার করার ফলে সংঘর্ষ ঘটে’।

এ ব্যাপারে চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিঝিয়ান জানান, “চীন ভারতের কাছে স্পষ্ট প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেছে, তারা যেন প্রাসঙ্গিক চুক্তির প্রতি আন্তরিকতা দেখায়। চুক্তি মেনে চলে তাদের সামনের সারির জওয়ানদের যেন সংযত রাখে। তারা যেন কোনো ভাবেই সীমান্ত না পার হয়”।

চীনা পক্ষের একমাত্র হতাহতের বিষয়টি তাদের চিনের সরকারি মুখপত্র গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকের একটি টুইটে সে দেশের সেনাদের হতাহত হওয়ার খবরটি প্রকাশ্যে আসে।

গ্লোবাল টাইমস-এর এডিটর-ইন-চিফ হু জিজিন টুইটারে লিখেছেন, ‘আমি যা জানি, তার ভিত্তিতে গলওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষে চিনা পক্ষও হতাহতের শিকার হয়েছিল। আমি ভারতীয় পক্ষকে বলতে চাই, অহংকারী হবেন না এবং দুর্বল ভেবে চিনের প্রতিরোধকে ভুল ভাবে নেবেন না’।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় তরফে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক সেনা অফিসার এবং দুই জওয়ান। ভারতীয় সেনা বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নিহতরা হলেন কর্নেল বি সন্তোষ বাবু (বিহার রেজিমেন্ট), হাভিলদার পালানি এবং সিপাহি ওঝা। গতকালের সংঘর্ষের পর দু’পক্ষের উপর মহলের অফিসাররা উত্তেজনা প্রশমনে ওখানে আলোচনায় বসেছেন’।

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দুই দেশের সেনা-সংঘর্ষে কোনো গুলিগোলা চলেনি। মূলত পাথর এবং রড দিয়েই এক অপরের উপর আক্রমণ করে। কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।