নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম ব্যানারে তারা এ মানববন্ধন করে। কর্মসূচি চলাকালে প্রায় দেড় ঘণ্টা শাহবাগ মোড় হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।

চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল ও তাদের জন্য আলাদা কমিশন গঠন, জাতির পিতা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে অবমাননাকারীদের শাস্তি প্রদান, মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, সামাজিক মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনাবিরোধী প্রচার বন্ধ এবং সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান- প্রজন্মদের বয়সসীমা প্রচলিত নিয়মে আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও তাদের সন্তানদের নিয়োগ ও ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা তুলে দিলেও আইনানুযায়ী প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা বহাল রয়েছে।

এরপরই মঙ্গলবার বিকালে শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের হাতে দেখা যায়, ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল ও শতভাগ বাস্তবায়ন চাই, ‘স্বঘোষিত রাজাকারের বাচ্চাদের’ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়, এই দেশ তাদের জন্য না, সরকারি সব চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা চাই, মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় রাজাকারদের ঠাঁই নাই, ৭৫ থেকে ৯৬ এ ২১ বছরের কোটার হিসাব চাইসহ নানা সব ফেস্টুন-ব্যানার।

এসময় আন্দোলনরত এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলেন, স্বঘোষিত রাজাকারদের কথায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা মোটেও ঠিক হয়নি।

এদিকে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে অবরোধস্থলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যান। তারা অবরোধকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে বলেন, ‘আপনারা জনভোগান্তি সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করুন।’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরবে বলেও জানায় ছাত্রলীগ নেতারা। পরে ছাত্রলীগের নেতাদের অনুরোধে তারা কর্মসূচি স্থগিত করে।