নিউজ ডেস্ক: বরিশালের মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদ হোসেনের পরকীয়ায় তছনছ হয়ে গেছে প্রবাসী মোতালেব কাজী ও দুই সন্তানের জননী আছমা আক্তার লাকীর ১৭ বছরের সংসার। তাদের সংসারে ১০ ও ৫ বছরের দুই সন্তান রয়েছে।

কাজী মুরাদ উপজেলার পৌরসভা সদরের মৃত আতাহার আলী কাজীর ছেলে। আছমা খানম লাকী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য ও চরকালেখান ইউনিয়নের আবুল হাসেম কাজীর ছেলে কুয়েত প্রবাসী মোতালেব কাজীর স্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে মোতালেব কুয়েতে রয়েছেন। আছমা খানম লাকী উপজেলার ষোলঘর গ্রামের আকতার খানের মেয়ে।

কুয়েত প্রবাসী মোতালেব কাজীর বাবা আবুল হাসেম কাজী বলেন, সর্বশেষ ১৬ নভেম্বর লাকী তার দুই সন্তান রেখে প্রেমিক কাজী মুরাদের সাথে পালিয়ে যায়। বড় সন্তান ছেলে রয়েছে আমাদের কাছে। ছোট মেয়ে লাকীর কাছে। এরপর আমার ছেলেকে তালাক দিয়ে মুরাদকে বিয়ে করে।

পরদিন ১৭ নভেম্বর লাকী আমার বাড়িতে এলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় বাড়ির লোকজন। এখন আমরা নাতিকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমার ছেলেও হুমকি-ধামকির কারণে দেশে আসতে পারছে না। দেশে আসলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এর আগে দেশে আসার পর কারণে-অকারণে আমার ছেলেকে মুরাদের সন্ত্রাসী বাহিনী বেদম মারধর করে। বিষয়টি বুঝতে পেরেও দুই শিশু সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে আমরা সবাই নিশ্চুপ ছিলাম। কিন্তু এখন তারা বিয়ে করেছে। আমাদের সাথে তার কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না।

মোতালেব কাজীর বাবা আরো বলেন, গত ১৬ নভেম্বর লাকী তার প্রেমিক মুরাদের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমার ছেলের পাঠানো নগদ ২০ লাখ টাকা ও ৪ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এছাড়া তাদের প্রেমের সম্পর্কের সময় লাকীর মাধ্যমে ১২ বছরে আমার ছেলের উপার্জিত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মুরাদ।

লাকীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। আমার নাতি ঘর থেকে বের হয় না। সে শিশু হলেও মায়ের এ সম্পর্ককে মেনে নেয়নি। এমনকি সর্বশেষ লাকী যেদিন বাড়িতে এসেছিল তার সঙ্গে আমার নাতি দেখাও করেনি।

আবুল কাসেম দাবি করেন, আমার ছেলের সাথে ১৭ বছর পূর্বে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় লাকীর। ১৭ বছরের মধ্যে ৭ বছরের অধিক সময় ধরে মুরাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল লাকীর। কিন্তু তা আমরা জানতে পারিনি। ৪ থেকে ৫ বছর পূর্বে জানলেও নাতিদের কথা চিন্তা করে আমরা তাকে বুঝিয়ে ওই পথ থেকে সরে আসতে বলি।

কিন্তু সে তার প্রেমে অটল থাকে। এ কারণে আমার ছেলে বিদেশ থেকে আসলে তার সাথে ভালো আচরণ পর্যন্ত করতো না লাকী। এভাবে দীর্ঘদিন চলার পর মুরাদের বুদ্ধিতে লাকী মেম্বর প্রার্থী হয়। সেখানে আমার ছেলের পাঠানো টাকা দিয়ে সে নির্বাচন করে মেম্বর হয়।

মেম্বর হওয়ার পর তার শক্তি আরো বেড়ে যায়। লাকী আমাদের তোয়াক্কাই করতো না। মুরাদ ও মেম্বর এ দুই শক্তি নিয়ে আমাদের সাথে সবসময় খারাপ আচরণ করতো। কিন্তু লাকীকে যে তালাক দেবে সে সাহসও ছিল না আমার ছেলের।

অন্যদিকে মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদ হোসেন বলেন, আমি আছমা খানম লাকীকে বিয়ে করিনি। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। একটি চক্র রাজনৈতিকভাবে আমার ক্যারিয়ার ধ্বংস করার চক্রান্তে মেতেছে।

এ ব্যাপারে মুলাদী সদর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী হারুন অর রশিদ জানান, ১৭ নভেম্বর রাতে কাজী মুরাদ হোসেন ও আছমা খানম লাকী বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে আমার কাছে আসে। কিন্তু আমি বিয়ে না পড়িয়ে বরিশালের আইনজীবী (নোটারী পাবলিক) সৈয়দ আবুল খায়ের মো. শফিউল্লাহর নিকট পাঠাই। সেখানে লাকী প্রথমে তার স্বামীকে তালাক দেন। পরে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে লাকী ও মুরাদের বিয়ে হয়।

আইনজীবী সৈয়দ আবুল খায়ের মো. শফিউল্লাহ রেজিস্ট্রি খাতা না দেখে বিষয়টি বলতে পারবেন না বলে জানান। পরে তার চেম্বারে গেলে রেজিস্ট্রি খাতা বাসায় আছে বলে টালবাহানা করেন।

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিষয়টি আমি জানি। কিন্তু সভাপতি এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি। সভাপতি সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিতে বললে আমি অগ্রসর হতে পারি।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত বলেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এখন তারা বিয়ে করেছে। তাছাড়া আমি (সভাপতি) মেয়ের সাথে কথা বলেছি। সে জানিয়েছে কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই। এ কারণে সাংগঠনিক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।