নিউজ ডেস্ক: নাটোরের সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক আয়োজিত আগষ্টের শহীদদের স্মরণসভায় যোগদান করার জের ধরে হাতুড়িপেটায় আহত আশিক ইকবাল (৪৬) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

সিংড়া-৩ আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলীর পুত্র আশিক ইকবাল বর্তমানে বগুড়া জিয়াউর রহমান কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় ইয়াকুব আলীর ছোট ছেলে ইফতেখার আলম বাদী হয়ে ১নং সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম মো. হাসমত আলীসহ চারজনের নাম উল্লেখসহ ৬/৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী ইফতেখার আলম জানান, বগুড়া জিয়াউর রহমান কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার বড় ভাই আশিক ইকবালের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্মরণসভায় আশিক ইকবালের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জের ধরেই তারা আশিক ইকবালকে হাতুড়ি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা এবং হাত ও পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া জিয়াউর রহমান কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত কবির বলেন, অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সার্জিক্যাল বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে।

নন্দীগ্রাম থানার এসআই আব্দুর রহিম জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামী তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নাটোরের সিংড়া আওয়ামী লীগে বিবদমান দুটি গ্রুপের একটি অংশে সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক গত ২৬ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ ও ২১ আগস্টে নিহত সবার রুহের মাগফেরাত কামনা করে স্মরণসভার আয়োজন করেন।

সেই স্মরণ সভায় সাবেক এমপি ছেলে আশিক ইকবালের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। এর জেরে সুকাশ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম মো. হাসমত আলীসহ তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয় সিংড়া-৩ আসনের সাবেক এমপি ইয়াকুব আলীর পুত্র আশিক ইকবালের সাথে। এছাড়া সম্প্রতি লক্ষীখোলা গ্রামে আওয়ামী লীগ কর্মী শরিফুলের জমির ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে আব্দুল লতিফের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের সিংড়া থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। এরই জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় রনবাঘা মাছ বাজারে আশিক ইকবালের ওপর হামলা চালায় আওয়ামী লীগের বিবদমান অপর অংশের সমর্থনপুষ্ট ক্যাডার বাহিনী। এ সময় হাতুড়িপেটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, হাত ও পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় স্থানীয় জনতা ধাওয়া করে হামলাকারী আওয়ামী লীগকর্মীদের আটক করে পুলিশে দেয়। হামলাকারীরা সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম মো. হাসমত আলীর নির্দেশে এই হামলা করেছে বলে জনতা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে।

এদিকে সুকাশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম মো. হাসমত আলী বলেন, তাদের গ্রামের লোকদের মারধরের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। আটককৃতরা আওয়ামী লীগের কর্মী হলেও আমার লোক না। আমি কোনোভাবেই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।

অন্যদিকে সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, স্মরণসভায় আশিক ইকবালের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়। এর জের ধরেই বিতর্কিত কমিটির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হালিম মো. হাসমত আলী হুকুমে নামধারী আওয়ামী লীগের কর্মীরা এ হামলা করেছে।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শওকত কবির বলেন, মারপিটের ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করা হয়েছে।