নিউজ ডেস্ক: অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার দায়ে দুই মামলায় ৬ মাস করে ১ বছরের কারাদণ্ডের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একদিকে এমপিপুত্র ও অন্যদিকে নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করীম চৌধুরীর জামাতা এবং নিজে কাউন্সিলর ছিলেন ইরফান। ঢাকায় তাদের পরিবারের অন্তত ১৫০টির মতো সুউচ্চ ভবন রয়েছে।

শুধু পুরান ঢাকায় ৩০টি ভবন রয়েছে সেলিম পরিবারের। ওইসব ভবন মার্কেট ও বাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া সিমেন্ট, জাহাজ, ফ্রুটস ও ট্রেডিং ব্যবসা রয়েছে ওই পরিবারের।

তিন ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম দ্বিতীয়। তাছাড়া বড় ভাই সোলায়মান সেলিম পিতার ব্যবসা দেখাশোনার পাশাপাশি পুরান ঢাকার আহমেদ বাওয়ানী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ছোট ভাই আশিক সেলিম অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত রোববার রাতে এমপি হাজী মো. সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান সিগন্যালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিডি হলে সোমবার ভোরে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

এ মামলায় সোমবার দুপুরে ইরফানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। এছাড়া পুরান ঢাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, অস্ত্রসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখায় কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে জেল দেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম নিজেই বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ইরফান সেলিমসহ চারজনের নামে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই গাড়িচালককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইরফানের গাড়ি ওয়াসিমকে ধাক্কা মারার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিম সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামান এবং গাড়ির সামনে দাঁড়ান। নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনই মেরে ফেলবো’।

এরপর বের হয়ে ওয়াসিমকে কিল-ঘুষি মারেন এবং তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা মারধর করে ওয়াসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যান। তার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডির ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যান।