বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের সিংড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি। ছবি: রাজু আহমেদ

বিশেষ প্রতিবেদক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও তাঁর রাজনীতির দর্শনকে জানতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে তাঁর ইতিহাস জানতে দেয়া হয়নি। তাঁর জীবনের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা দেশের বাইরে ছিলেন জন্য তারা বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঘাতকদের বুলেট থেকে বাঁচতে পারেনি ছোট্ট রাসেল।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের সিংড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেছিলেন। ঘাতকরা টার্গেট করেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিতে। কিন্তু বিদেশি প্রভূদের মদদে ফজরের আজানের সময় ঘাতকরা নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল। কিন্তু ঘাতকরা বাঙ্গালির চেতনাকে হত্যা করতে পারেনি। তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকবে সব সময়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটকাল থেকে বঙ্গবন্ধু মানুষের পাশে ছিলেন, ছাত্র বয়সে ছাত্রদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন করেছেন। তিনি ছাত্রত্ব বিসর্জন দিয়েছেন কিন্তু আদর্শকে বিসর্জন দেননি। বঙ্গবন্ধু সাধারন জীবন যাপন করছিলেন, লোভ, লালসা, আরাম আয়েশকে তিনি বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশকে তিনি অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসতেন। দেশকে এবং দেশের মানুষকে খুব ভালোবাসাই তাঁর জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনি মানুষের ভালোবাসার মাঝে ছিলেন, থাকবেন আজীবন। দেশের জন্য নিজের জীবনকে বিসর্জন দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি জামায়াত সরকার নির্মমভাবে ২০০১ সালে হত্যার রাজনীতি শুরু করে। আওয়ামী লীগের বহু নেতা কে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারকে জনগণ পুনরায় ক্ষমতায় এনেছে। বাংলাদেশকে তিনি উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিগত দিনে জনগনের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। অথচ আমরা বিগত সকল দুর্যোগ এবং বন্যায় জনগণের পাশে আছি, এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ। সিংড়া পৌরসভা ১৬ বছর উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। আমরা ৫ বছরে তিনগুন উন্নয়ন করেছি।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দমদমা এলাকার উন্নয়ন করেছি, ৫০ শয্যার হাসপাতাল করেছি। তিনটি এ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেছি। স্কুল, কলেজে নতুন ভবন দিয়েছি। জনগণ এখন সেবা পাচ্ছে, উন্নয়ন পাচ্ছে। দমদমার মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আমরা উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে চাই। এ জন্য অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।

নাটোরের সিংড়া পৌরসভার ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে নাজিম উদ্দিন, রামপ্রসাদ ও আবুল কালামের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিংড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব জান্নাতুল ফেরদৌস।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেদার হায়াত বেনু, পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সোবাহান, শ্রমিক লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আওয়ামী লীগ নেতা গোপাল বিহারী দাস, শরফরাজ নেওয়াজ বাবু প্রমুখ।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জিএ সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন, কৃষক লীগের নেতা কাজী স্বপন, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাইদুর রহমান সৈকত, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খালিদ হাসান প্রমুখ।

সভায় বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা আব্দুস শাকুর। আর অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক নাজমুল হক বকুল।

কৃতজ্ঞতা: রাজু আহমেদ