নিউজ ডেস্ক: তুরস্কে হাইয়া সোফিয়ার পর আরেকটি চার্চকে মসজিদে রূপান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। প্রাচীন চার্চটি প্রথমে একটি অর্থোডক্স উপাসনাগার ছিল। পরে এটিকে মসজিদ বানানো হয়। এরপর সেটিকে ইস্তাম্বুলের একটি যাদুঘরে পরিণত করা হয়।

শুক্রবার তুরস্ক সরকারি একটি গেজেট জারি করেছে। এর আগে যাদুঘরটিকে ফের মুসলমানদের জন্য মসজিদ বানানোর ঘোষণা দেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। প্রায় এক হাজার বছর পুরনো এই চার্চটিকে ৫শ’ বছর আগে অটোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর মসজিদে রূপান্তর করা হয়েছিল। পরে এটিকে জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। খবর আল জাজিরার

দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নতুন এই নির্দেশের ফলে এটি আবার মসজিদ হিসেবে যাত্রা শুরু করবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী এক মাসের মধ্যেই সেটি বাস্তবায়ন হবে।

এমন এক সময় কারিয়ে জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তরের নির্দেশ দিলেন এরদোগান, যখন মাত্র এক মাসের কম সময় আগে হাইয়া সোফিয়াকে জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করেছে তুরস্ক। এই কারিয়ে চার্চটি এক হাজার বছর পুরনো। এটি ইউরোপ-ঘেঁষা ইস্তাম্বুলের ‘গোল্ডেন হর্ন’ এলাকার প্রাচীন নিদর্শন। ইস্তাম্বুলে খোরা এলাকায় বাইজেন্টাইনরা এই চার্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল।

কারিয়ে মিউজিয়ামের স্থাপনাটি অন্তত এক হাজার আগে তৈরি একটি চার্চ। ইস্তাম্বুলে খোরা এলাকায় এটি বাইজেন্টাইনরা চার্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। চতুর্দশ শতকের অসাধারণ সব দেয়ালচিত্র দিয়ে ভবনটির ভেতরের দেয়াল সুসজ্জিত। পরবর্তী সময়ে অটোমানরা ১৪৫৩ সালে কনস্টানটিনোপোল তথা বর্তমান ইস্তাম্বুল দখল করে নিলে গির্জাটি মসজিদে পরিণত করা হয়, নাম হয় কারিয়ে মসজিদ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুরস্ক ধর্মনিরপেক্ষতার পথে হাঁটলে কারিয়ে মসজিদটিকে জাদুঘরে পরিণত করা হয়। আমেরিকার একদল শিল্প ইতিহাসবিদের সহায়তায় ভবনটির চার্চ আমলে তৈরি মোজাইকের কারুকাজগুলো উদ্ধার করা হয়। সংস্কারকাজ শেষে ১৯৫৮ সালে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

তবে গত বছরের নভেম্বরে একটি প্রশাসনিক আদালত মিউজিয়ামটিকে ফের মসজিদে রূপান্তরিত করার আদেশ দিলে এরদোগান সরকার এখন তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। এর আগে গত মাসে আদালতের রায়ে ইস্তাম্বুল শহরে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত খ্যাতনামা হায়া সোফিয়া জাদুঘরকে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।