তোফাজ্জল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলার সিদ্ধান্ত

নিউজ ডেস্ক: নাতি জামাইয়ের বাড়ি থেকে সরকারি ১৮৪ (অপর একটি সূত্র জানিয়েছে ১০০) বস্তা গম উদ্ধারের ঘটনায় নাটোরের ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে দূর্নীতি দমন আইনে মামলা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রশাসন।

বুধবার (৫ আগস্ট) চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার ও মাঝদিঘা গ্রামের খাল সংষ্কার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহনাজ পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজ পত্র যাচাই বাছাই শেষে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে দুপুরে পুলিশ মাঝদিঘা গ্রামে তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ীর পিছনে তার আত্মীয় কুরবান আলীর বাড়ি থেকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর (কাবিখা) প্রকল্পের ১৮৪ বস্তা গম জব্দ করে পুলিশ। কুরবান আলী জানান, গমগুলো ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার তাদের বাড়িতে রেখেছিলেন। এরপর তোফাজ্জল হোসেন ও মাঝদিঘা খাল সংষ্কার কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য শাহনাজ পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।

তবে নাটোর সদর উপজেলা সুত্রে জান যায়, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় মাঝদিঘা গ্রামের খাল সংষ্কারের জন্য ৮.৮ মেঃ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহনাজ পারভীন। কাজের মান সন্তোষজনক হওয়ায় চার কিস্তিতে শাহনাজ পারভীন ২.২ মেঃ টন করে মোট ৮.৮ মেঃ টন গম উত্তোলন করেন।

এ ব্যাপারে নাটোর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ ওমর খৈয়াম জানা গেছে, সদর উপজেলার মাঝদিয়া গ্রামে একটি খাল খননের জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় সাড়ে আট মেট্রিক টন গম বরাদ্দ করা হয়। একইসঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার শাহনাজ বেগমকে প্রকল্প সভাপতি করা হয়। প্রকল্পের কাজ গত জুন মাসের আগেই সম্পন্ন হওয়ার পর বরাদ্দকৃত গম উত্তোলনের জন্য তাকে ডিউ লেটার দেওয়া হয়।

এদিকে ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্পের আওতায় গম দেওয়ার কথা থাকলেও টাকা ছাড়া লেবার পাওয়া যায় না। এ কারণে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন মাছের খাদ্য হিসেবে সেগুলো কিনে নিয়ে কুরবান আলীর বাড়িতে সংরক্ষণ করেন। আর প্রকল্পের কাজের টাকা নগদ টাকায় পরিশোধ করা হয়।

অপরদিকে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, সরকারি বরাদ্দের কোন অনিয়ম দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তাই বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানানো হয়েছে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো জানান, খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমারা গম পুলিশ জব্দ করেছে। কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর (কাবিখা) আওতায় এটি দুর্নীতির মধ্যেই পড়ে। কাজেই দুর্নীতি দমন কমিশন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।