নিউজ ডেস্ক: আপন দুই কিশোরী বোনকে ধর্ষণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি কান্দাপাড়ার একটি বাড়ির ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে আবু বক্কর (৪৮) নামের এক কেয়ারটেকারকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি আবাসিক ভবনের খালি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে তাকে আটক করে পুলিশ। আবু বক্কর ওই আবাসিক ভবনে কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন। তিনি আবু বক্কর (৪৮) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের অদুল্লাহ মিয়ার ছেলে।

তবে ভবনের মালিক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর পুলিশ আসার ঘটনা টের পেয়ে তাকে নিজ বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরির্দশক আলমগীর হোসেন জানান, রাতে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের ছয় তলার উপরের এক কক্ষের ভেতর থেকে বন্ধ রাখা দরজা ভেঙে তাকে গ্রেফতার করে।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর আপন দুই কিশোরী বোনকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের বাবা।

ভুক্তভোগী দুই কিশোরীর বাবা জানান, তিনি একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকরি করেন। তার এক মেয়ের বয়স ১১, অপরটির বয়স ১৩। মেয়ে দুটিকে তিনি স্থানীয় হোসিয়ারিতে কাজে লাগিয়েছিলেন। এর মধ্যে গত ৫ অক্টোবর কাজ থেকে সন্ধ্যায় বাসায় না ফিরে এলাকায় ঘুরছিল। একই এলাকায় বসবাস করায় আবু বক্করকে তার দুই মেয়ে নানা বলে ডাকত। গত ৫ অক্টোবর তারা অভিমান করে কিশোরীদের খালার বাসায় যাওয়ার পথে তাদেরকে ডেকে নেয় ওই কেয়ারটেকার। এ সময় ওই ভবনের নিচ তলায় তাদেরকে ভয় দেখিয়ে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করেন এবং এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখান আবু বক্কর।

তিনি আরো জানান, অনেক রাতে বাড়িতে ফিরে এলে মেয়েরা পরের দিন বিষয়টি খুলে বলে। রাতেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় গেলে সেখানকার পুলিশ সদস্যরা থানায় বড় অফিসার নেই বলে পরের দিন তাকে আসতে বলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় রহিম মেম্বারের ছেলে মনির বিষয়টি নিয়ে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীরকে অবগত করে মীমাংসার জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তালবাহানার একপর্যায়ে সোমবার এলাকার যুবকরা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেয় এবং আবু বক্করকে ধরতে যায়।

অবস্থা বেগতিক দেখে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীর তার কেয়ারটেকার আবু বক্করকে ৪ তলার একটি খালি ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রাখেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পুলিশ তার সন্ধান পেয়ে সেই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে আবু বক্করকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় সুযোগ বুঝে বাড়িওয়ালা জাহাঙ্গীরও চম্পট দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর আমরা পুরো ঘটনা জানতে পারব।