নিউজ ডেস্ক: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ধর্ষণের মতো এতো বড় অপরাধ যারা করেছে তাদের দুই মিনিটের ফাঁসি মানা যায় না। তাদের জন্য ফাঁসির আন্দোলন না করে ৫০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের দাবি জানানো উচিত।

শনিবার (১০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। নারী ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে এবং ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদকারী বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের স্মরণে আট স্তম্ভ ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে সমাবেশ ও পদযাত্রা (প্রেসক্লাব হতে শহিদ মিনার পর্যন্ত) অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ধর্ষণের মতো এত বড় অপরাধ যারা করেছে তাদের দুই মিনিটের ফাঁসি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে আপনার মেয়েকে যদি কেউ নিয়ে যেতো তাহলে কি দুই মিনিটের ফাঁসি দিয়ে আপনার কান্না থামতো। আমার কান্না তো থামতো না।

জাফরুল্লাহ আরো বলেন, আপনাদের বাড়ি ও প্রেসিডেন্ট হাউজ থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করেন। আপনাদের জীবনের এতো ভয় কীসের। ভয় যদি থাকে তবে সামরিক বাহিনী দিয়ে পাহারা দেন। এ পুলিশ বাহিনীকে তার দেশের শৃঙ্খলা নিয়োগে রাখেন। প্রতিটি বাসে, রেলপথে পুলিশ দেন। রাস্তাঘাটে পুলিশ দেন। প্রতিটি গার্লস স্কুলের মেয়েদের কারাতে শেখান। ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবর্তন আনেন। নয়তো একদিন দু’দিনের আন্দোলনে সরকারের পতন হবে।’

তিনি আরো বলেন, আজকে আপনারা যদি মনে করেন এ আন্দোলন থেমে যাবে, এটা ভুল। থামলেও আপনি শান্তি পাবেন না। বঙ্গবন্ধু কবরে বসে শান্তি পাবে না। উনি নিশ্চয়ই দুঃখ পাচ্ছেন আজকের বাংলাদেশ দেখে। আজকে আমাদের সবার দ্বায়িত্ব আপনাকে অনুরোধ করা। আপনি রাস্তায় নেমে আসেন স্বচোক্ষে দেখেন। ডিজিটাল বাদ দিয়ে আসেন এখানে, আসেন আমাদের সামনে এসে দাড়ান। তবেই জাতি বুঝবে আপনি এ জাতীয় সমস্যা সমাধান করতে চান।

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এবং পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল, জুনায়েদ সাকী, প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা আলম মিন্টু, গণ দলের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা ফরিদউদ্দিন প্রমুখ।

সভা পরিচালনা করেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার আক্তার হোসেন। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে উপরোক্ত নেতৃবৃন্দের আলোচনা শেষে প্রেসক্লাব হতে শহীদ মিনারে গিয়ে পদযাত্রা শেষ হয়।