নিউজ ডেস্ক: ফরিদপুরে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশের একটি দল। এর আগে আটক রুবেল-বরকতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহামুদ শামীমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি মিডিয়া) জিসানুল হক বলেন, ‘মানি লন্ডারিং আইনে সিআইডির পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার পলাতক আসামি তিনি।’

অন্যদিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান বলেন, দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় শামীমের নাম আসায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ফরিদপুরে চাঁদাবাজি ও হামলার মামলা রয়েছে। সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুন রাতে শহরের মোল্লাবাড়ী সড়কে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার বাড়িতে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে সুবল চন্দ্র সাহা গত ১৮ জুন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

গত ৭ জুলাই পুলিশের বিশেষ অভিযানে সুবল সাহার বাড়িতে হামলার মামলায় গ্রেফতার হন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সেই সময়ের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ আরও সাতজন। সেই মামলায় আদালতের মাধ্যমে রুবেল ও বরকতকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। সে সময় এর সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম প্রকাশ করেন তারা।

এর পরে ঢাকার সিআইডি পুলিশ বরকত ও রুবেলের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে নামে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ঢাকার কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। এ মামলায় গ্রেপ্তার হন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী ও জেলা শ্রমিক লীগের অর্থ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন।