নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন খালাস পেয়েছেন।

সোমবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল করার নোটিস যথানিয়মে জারি না হওয়ায় এবং রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইশরাককে খালাস দেয়া হলো। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী ইশরাক।

রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন বলেন, সরকার যতই অপচেষ্টা করে বিচারবিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবের চেষ্টা করুক না কেন, এখনও বিচারবিভাগ ও প্রশাসনে ন্যায়-পরায়ণ মানুষ রয়েছে। আজকে বিচারক সৎ সাহস নিয়েই এই রায় দিয়েছেন।

এর আগে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদিককে সম্পদ বিবরণী দাখিলে নোটিশ দেয় দুদক। নির্দিষ্ট সময়ে এই বিবরণী জমা না দেয়ায় ২০১০ সালের আগস্টে তাদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন দুদকের ওই সময়ের সহকারী পরিচালক মো. শামছুল আলম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাদেক হোসেন খোকার স্থাবর-অস্থাবর অনেক সম্পত্তি রয়েছে তার দুই ছেলে-মেয়ের নামে। তারা এসব সম্পদের উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের সম্পত্তির হিসাব দাখিলের নোটিশ দেয়া হলেও তা দাখিল করেননি তারা। এটি দুদক আইনের ২৬ (২) (ক) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় মামলা দুইটি দায়ের করা হয়।

তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। ২০১৮ সালের ৫ মে সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েশ চার্জশিট আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বদলির আদেশ দেন। পরে ইশরাক আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

গত ১৫ জানুয়ারি ইশরাকের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত ১১ নভেম্বর মামলাটিতে রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করেন আদালত। গত ২৭ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় সাফাই সাক্ষী হয়। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।