নিউজ ডেস্ক: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মাত্র কয়েকদিন আগেই ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বিষ্ণু গোপাল মহন্ত ওরফে বাধনরাজ (১৯) নামে তরুণ নিজেই ধর্ষণের গ্রেফতার হয়েছেন।

সম্প্রতি সারাদেশে ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন শুরু হলে পার্বতীপুরে ধর্ষণবিরোধী মানবন্ধনে অংশ নেয় বিষ্ণু গোপাল মহন্ত ওরফে বাধনরাজ। এর পরে পার্বতীপুরে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের পর তার অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিষ্ণু গোপাল মোহন্ত বাঁধন (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাঁধন দিনাজপুর এসআর পলিটেকনিক কলেজের ছাত্র। এর আগে সোমবার গভীর রাতে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেছেন নির্যাতিত মেয়েটির অভিভাবক। পরে পরে রাতেই অভিযুক্ত বাঁধনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পার্বতীপুর রেল থানায় দায়েরে করা মামলা সুত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত বিষ্ণু গোপাল মোহন্ত পৌর শহরের সাহেব পাড়া মহল্লার বিশ্বজিৎ কুমার মহন্ত মানিক মাষ্টারের ছেলে। তার মায়ের নাম জয়শ্রী রানি। তার বাসা রেলওয়ের সাহেবপাড়া কলোনির টিসি/৮১৩। তবে তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার গোপিনাথপুর কামারপাড়া।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপাল কৃষ্ণ মহন্ত বাঁধন একই এলাকার একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে ফেসবুকে পরিচয় গোপন করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরই একপর্যায়ে বাঁধন শুক্রবার বিয়ের বাঁধন সেই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাবা মার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে এবং মোবাইল ফোনে অশ্লীল ছবি ধারণ করে।

পরে মেয়েটি তার ধর্মীয় পরিচয় জানতে পেরে সম্পর্ক ছিন্ন করার চেষ্টা করলে গোপাল কৃষ্ণ মহন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে আগে মোবাইল ফোনে ধারণকৃত অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি মেয়েটির পরিবারের নজরে এলে এ বিষয়ে সোমবার রাতে কলেজছাত্রীর মা বাদী হয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রেলওয়ে পুলিশ সোমবার রাতেই গোপাল কৃষ্ণ মহন্তকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

এ ব্যাপারে ভিকটিমের মা ও মামলার বাদী জানান, তার মেয়েকে ধারণকৃত ছবি দেখিয়ে আরও ৫বার ধর্ষণ করা হয়েছে। আমার মেয়ে ধর্ষকের প্রকৃত ধর্মীয় পরিচয় জানার পর তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ের প্রস্তাব দেয় গত ১৬ আগস্ট। সে তা প্রত্যাখ্যান করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, মামলার সাথে সাথেই অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বাঁধনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তি আইনে থানায় মামলা হয়েছে। ডিজিটাল আইনের (২০১৮) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ২০০০ ৯(১) এর সংশোধনী ২০০৩ এর ২৫(২) ধারায় মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।