নিউজ ডেস্ক: পাবনার চাটমোহরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে ব্লাকমেইল করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেনকে (৪০) সাময়িক বহিষ্কার করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বড়াইগ্রামের জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সোবাহান হারেজ ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাবনার চাটমোহরে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা গোলজার হোসেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী চাটমোহর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করলে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পরই গোলজার হোসেনকে জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।

প্রসঙ্গত, প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে একাধিকবার ধর্ষণ ও ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গোলজার হোসেন (৩৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে কারাাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে পাবনার চাটমোহর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার গোলজার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। এছাড়া তিনি জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার গোলজার হোসেনের পদবী নিশ্চিত করে জোনাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি যে এ কাজ করেছেন তা দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার প্রস্তুতি নিচ্ছি বলেও জানান তিনি।

এদিকে নাটোরের জোনাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি তোজাম উদ্দিন ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার গোলজার হোসেনের দলীয় পদবী নিশ্চিত করলেও তার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায়ভার সংগঠনের নয় বলে মন্তব্য করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের এক প্রবাসী দুই বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যের ইরাকে পাড়ি জমান। তিনি তার আয়ের সব টাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে পাঠাতেন। এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলজার হোসেন ওই নারীকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন ও একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

তাদের বিভিন্ন সময়ের আলাপচারিতা ও কিছু দুর্বল মুহূর্তের ছবি মোবাইলে ধারণ করে রাখেন। এরপর সেগুলো প্রবাসীর স্ত্রীকে দেখিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ ধর্ষণের ছবি ভিডিওতে ধারণ করে তা প্রচারের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময় ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন গোলজার হোসেন। গত এক মাস আগে প্রবাসী স্বামী দেশে ফিরে আসেন এবং টাকা-পয়সার হিসাব চান।

এ অবস্থায় তার স্ত্রী জানান, গোলজারের কাছে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা রাখা আছে। তিনি টাকা চাইলে গোলজার তালবাহানা করতে থাকেন। এর মধ্যে গত ২ অক্টোবর তার স্বামী আবারও টাকা চাইতে গেলে গোলজার ও তার লোকজন তাকে মারধর করে আহত করেন। এ নিয়ে থানায় তিনি একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এছাড়া বুধবার বিকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিসে গৃহবধূ ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করেন। কিন্তু ধর্ষণের বিষয়টি আপসযোগ্য না হওয়ায় সালিস ভন্ডুল হয়ে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, গৃহবধূ থানায় ধর্ষণের মামলা করলে রাতেই পুলিশ আসামি গোলজার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।