বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বৈদ্যবেলঘড়িয়া গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে তোলা খামার থেকে ৪৯টি বিষধর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় খামার মালিক শাহাদাত হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। ছবি: আরিফুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিবেদক: নাটোরের নলডাঙ্গায় শাহাদত হোসোন নামে এক ব্যক্তির সাপের খামার বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এসময় অবৈধভাবে গড়ে তোলা বিষধর সাপের খামার মালিক শাহাদত হোসেনকে বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভ্রাম্যমান আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে উপজেলার বৈদ্যবেলঘড়িয়া গ্রামে চালানো অভিযানে খামারটি থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৯টি বিষধর সাপ ও বিপুল পরিমান সাপের ডিম। পরে সেগুলো বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খামার মালিক শাহাদাত হোসেন ওই গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে।

অভিযানে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন, রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থপানা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর, ফরেস্টার আশরাফুল ইসলাম, সাপ বিশেষঞ্জ রোমন, জেলা বন কর্মকর্তা সত্যনাথ সরকার, ওয়ার্ল্ড লাইফ জুনিয়র স্কাইটস মিমনুর রহমান, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ফজলে রাব্বি ও নলডাঙ্গা থানা পুলিশ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বৈদ্যবেলঘড়িয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেন কয়েকমাস আগে শখের বশে ৫টি বিষধর সাপ নিয়ে একটি খামার গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে তার খামারে বাড়তে থাকে সাপের সংখ্যা। সাপ লালন পালনে তার কোন অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণ ছিল না। আবার খামার গড়ে তোলার জন্য ছিল না সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তরের অনুমোদন। এ অবস্থায় শাহাদতের খামার ঘিরে আশপাশের মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়। খামার মালিকসহ এলাকার মানুষের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে খামারটি।

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সাপের খামার গড়ে তোলার ব্যাপারে শাহাদাতের কোনো বৈধ লাইসেন্স বা অনুমতি ছিল না। সাপ লালন-পালন বা চাষ করার কোনো প্রশিক্ষণও ছিল না তার। ফলে তার খামারটি এলাকাবাসীর জন্য ছিল হুমকি স্বরূপ। খামারে পদ্মগোখরো ও গোখরো এই দুই প্রজাতির ৪৯টি সাপ ছিল। সবগুলো খুবই বিষধর। আর এসব বিষধর সাপের খামার গড়ে তোলার কারণে এলাকাবাসীও ছিলেন চরম আতঙ্কে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো জানান, বিষয়টি জানার পর রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে জানানো হয়। বিকেলে তাদের একটি অভিযানিক দল নলডাঙ্গায় আসেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে ওই সাপের খামারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খামার থেকে ৪৯টি বিষধর সাপ ও বিপুল পরিমাণ ডিম উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, লাইসেন্স বিহীন অবৈধভাবে সাপের খামার গড়ে তোলার অপরাধে শাহাদাত হোসেনকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে খামারটি সিলগালা করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত এসব সাপ ও সাপের ডিম বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

কৃতজ্ঞতা: আরিফুল ইসলাম