নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোর জেলার ৭ উপজেলার ৫২টি ইউনিয়নে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে নাটোর সদর, নলডাঙ্গা ও সিংড়া উপজেলায় ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় নাটোর উপজেলার সদরের ছাতনী, বনবেলঘরিয়া, বারোঘরিয়া, মোমিনপুর, কেশবপুর, হরিশপুর, কাফুরিয়া প্রভৃতি গ্রামের গম, পিয়াজ, সবজি, পান ও ধানসহ মাঠের সকল ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, রোববার ভোর ৫টা ২০মিনিটে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও দমকা ঝড় শুরু হয়। এ সময় প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী একটানা শিলাবৃষ্টিতে মাঠ, ঘাট, রাস্তা, বারান্দায় স্তুপ পড়ে যায়। গম,ধান, পান, আম, জামসহ উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক ঘন্টা ধরে বরফে ঢাকা পড়ে থাকে শত শত হেক্টর রবি ফসলের জমি। এছাড়া শিলা বৃষ্টিতে জেলার প্রায় অধিকাংশ এলাকার আমের মুকুল ঝড়ে পড়েছে। ভুট্টার গাছ হেলে পড়েছে, পানের বরজের পানও ঝড়ে পড়েছে।এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষককুল। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা করছেন বিলাপ।

সদর উপজেলার ছাতনী গ্রামের কৃষক সাদেক আলী বিলাপ করে বলেন, শিলা বৃষ্টিতে তার আড়াই বিঘা জমির পানের বরজ সম্পন্ন বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে তার ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই গ্রামের কৃষক মোমিন জানান, তার ভুট্টা ও পিয়াজের জমির কিছুই নেই। বরফ দিয়ে ঢাকা পড়ে সম্পন্ন জমি। কৃষক শাজাহান আলী জানান, তার তিন বিঘা জমির গম সম্পন্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এছাড়া নলডাঙ্গা উপজেলার সোনাপাতিল, মাধনগর, পাটুল, খাজুরা ও হালতি খোলাবাড়িয়া বিলসহ পুরো উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সাথে ঘরবাড়ির গাছের ডাল-পালাও ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রবল শিলাবৃষ্টিতে টিনের চাল ফুটো হয়ে যায়।

সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম, তাজপুর, লালোর, শেরকোল, ডাহিয়া, সুকাশ, ইটালী ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। চৌগ্রামের বাসিন্দা মনজু জানান, তার বাড়ির চাল ফুটো হয়ে গেছে।

মাধনগর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ দেওয়ান, খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ও সুকাশ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দল মজিদ জানান, তাদের ইউনিয়নে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ও বাড়ি ঘর ভেঙ্গে গেছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানান, শিলাবৃষ্টির কারণে ফসলসহ বিভিন্ন সবজি বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমান নিরুপণ করা হচ্ছে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে, সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম আকস্মিক শিলা বৃষ্টিতে রবি ফসলের ক্ষতির হওয়ার সম্ভাবনার সত্যতা স্বীকার করলেও তাৎক্ষনিকভাবে ক্ষতির পরিমান জানাতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, কি পরিমান জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা নিরুপনে তিনি সহ কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে রয়েছেন।

নাটোরের ডিসি মো শাহরিয়াজ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে, সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।