নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরে সদ্য যোগদানকারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোলামুর রহমানের বিরুদ্ধে এক নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে গত ২৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন সেই নারী ম্যাজিস্ট্রেট।

কিন্তু ডিসির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে গত ২ নভেম্বর সেই নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে নাটোর থেকে বদলি করলে, তিনি নাটোর ছেড়ে চলে যাওয়ায় যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়টি গোপন ছিল এত দিন। গত বৃহস্পতিবার ওই নারী ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযোগপত্রটি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসে পৌঁছালে নাটোর জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নাটোরের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও দিঘাপতিয়া এমকে কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক ও সচেতন নাগরিক কমিটি নাটোর জেলা শাখার সভাপতি রনেন রায়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগপত্রে সেই নারী ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর নাটোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন গোলামুর রহমান। তিনি যোগদানের পর প্রথমে সেই নারী ম্যাজিস্ট্রেককে সাধারণ শাখা ও ট্রেজারি শাখা থেকে সংস্থাপন শাখায় বদলি করেন। পরে জেলা প্রশাসক সংস্থাপন শাখায় রক্ষিত সব কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি নিয়ে তার সঙ্গে ওই নারীকে একান্তে বসে কথা বলতে বলেন। এমনকি রাতে বাংলো (যেখানে ডিসি একা থাকেন) অথবা সার্কিট হাউসে আসতে বলেন। তবে সেই নারী ম্যাজিস্ট্রেট তার এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। পরে ডিসি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই নারীর ম্যাসেঞ্জার ও মুঠোফোনে কু-প্রস্তাব দেন। এছাড়া ডিসি মাঝে-মধ্যে কাজের কথা বলে গভীর রাতে কল দিয়ে আপত্তিকর কথা বলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

তবে সেই নারী ম্যাজিস্ট্রেট সম্মানহানির ভয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে নারী ম্যাজিস্ট্রেটকে যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে নাটোরের ডিসি গোলামুর রহমান জানান, ফেসবুক আইডি হ্যাকড করে কেউ এ কাজ করে থাকতে পারে।

ফেসবুক আইডি হ্যাকড হওয়ার পর কেন আইনি ব্যবস্থা নেননি-গণমাধ্যমকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি ফেসবুকের বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে চাইনা।

সচেতন নাগরিক কমিটি নাটোর জেলা শাখার সভাপতি রনেন রায় বলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসক যোগদানের পর থেকে প্রশাসনে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। একজন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ মেনে নেওয়া যায় না। যিনি নাটোরবাসীকে নিরাপত্তা দিবেন, তিনি যদি নিজেই অপরাধ করেন। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?

নাটোরের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কাছেই যদি নিরাপত্তা না পাওয়া যায়, তাহলে নিরাপত্তা প্রাপ্তির জায়গা কোথায় পাব?’

তারা আরো বলেন, ‍ অবিলম্বে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।