নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং নাটোর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নাটোর সদর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রত্না আহমেদকে নিয়ে ‎Joy Rassel‎ নামের একটি আইডি থেকে ‌‌বঙ্গবন্ধুর চেতনায় ৭১ অনলাইন অফলাইন গ্রুপ্, একটি রাজনৈতিক সংগঠন নামের একটি পেজে অপপ্রচেরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেজে দেয়া বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাছাই করা যায়নি। তবে ঐ পেজে দেয়া বক্তব্য স্কিন শট ও লিঙ্কসহ নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো:

রাজাকার এর বউ রত্না হইল MP
হোক প্রতিবাদ.
********************************
স্বামী রাজাকার হওয়ার পরও এমপি হলেন নাটোরের রত্না আহমেদ

চমকের পর চমক, একে একে সব থলের বেড়াল বেরিয়ে আসছে।একজনেরর স্বামী বিএনপি করেন,অন্যজনের স্বামী রাজাকার। কি চমৎকার তেলেসমাতি। এর নেপথ্যে কাদের ভুমিকা আছে জানতে মন চায়।প্রকৃত ত্যাগীদের মুল্যায়ন নাই, হঠাৎ লীগের আমদানি প্রচুর।

#স্বামী বিএনপি করায় যদি সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মননোয়ন পাওয়ার পরেও চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শিরিনা নাহার লিপি। তাহলে একজন সনাক্তকারী রাজাকারের স্ত্রী কি করে মনোনয়ন পায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস নাটোরে রাজাকার কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আহম্মেদ হোসেন চম্পার স্ত্রী, মহিলালীগ নেত্রী রত্না আহম্মেদকে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়েছে । নাটোরের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতার পক্ষের সরকারের এমন স্বিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছেন । রাজাকারের স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নাটোর শহরে ”টক অব দি টাউনে ” পরিণত হয়েছে ।

স্বামী বিএনপি করার অপরাধে এমপি হতে পারলো না সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মননোয়ন পাওয়া…যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শিরিনা নাহার লিপি কিন্তু ১৯৭১ সালে রাজাকার হানাদার বাহিনীর দোসর মুরগী ও নারী সরবরাহকারী আহম্মেদ হোসেন চম্পার স্ত্রী রত্না আহম্মেদ সংসদ সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ । এ নিয়ে নাটোরের স্বাধীনতার পক্ষের সচেতন মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে ।

আওয়ামী লীগ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নারী মনোনয়ন চেয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হওয়ার জন্য । এসব নিয়ে আলোচনার মধ্যে নাটোরে হঠাৎ তোলপাড় শুরু হয়েছে নতুন একটি ইস্যুতে, রাজাকারের স্ত্রী । প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীর কোনো সস্তানকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই তোলপাড় হচ্ছে নাটোরে।তাহলে তাহলে কি রাজাকারের স্ত্রীকে মনোনয়ন দেয়া হবে ?

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নাটোরের বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেন , স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রত্না আহম্মেদের মরহুম স্বামী আহম্মেদ হোসেন চম্পা ১৯৭১ সালের পুরোটা সময় নাটোরের দায়িত্বরত পাকহানাদার বাহিনীর কমান্ডার মেজর শেরওয়ানির গাড়িতে নাটোর জেলা জুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধার বাড়িঘর চিনিয়ে দিয়েছে। নারীদের ধর্ষণ, নির্যাতন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে রত্না আহম্মেদের স্বামী চম্পা যা রাজাকারের তালিকা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ । মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা, নির্যাতন ও লুটতরাজে নেতৃত্ব দিয়েছে সদলবলে । পাক হানাদার বাহিনীকে মুরগী এবং নারী সরবরাহ করেছে । রত্না আহম্মেদের বাসায় ছিল পাকহানাদার বাহিনীর জলসাঘর। স্বাধীনতা যুদ্ধে বির্তকিত ভূমিকার জন্য নাটোর জেলাবাসীর কাছে রত্না আহম্মেদের স্বামী নাটোরবাসীর কাছে ”রাজাকার চম্পা” বলে পরিচিত । তারই সহযোগী স্ত্রী রত্না আহম্মেদ সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ায় মাধ্যমে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের এই আত্মত্যাগকে অপমাণিত করা হয়েছে ।

৯০ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আহম্মেদ হোসেন চম্পা রাতারাতি মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি ভাড়াটে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার বাহিনীকে ব্যবহার করে নাটোরের মুক্তিযোদ্ধাদের হুমকি ধামকি , অত্যাচার -নির্যাতন চালিয়ে নিজেকে নাটোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে ঘোষণা দেন । এ ঘটনার প্রতিবাদে নাটোর মুক্তিযোদ্ধারা স্বোচ্চার হয়ে উঠে । রাজাকার চম্পাকে কমান্ডার করার প্রতিবাদে সে সময় নাটোরের রাজপথে ছাত্রলীগ যুবলীগ বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ মিছিল করে। যে মিছিলে নেতৃত্বদানকারীদের একজন নাটোর সদর আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল।

১৯৯৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপদেষ্টা আব্দুল মালেক উকিল নাটোর আসলে নাটোরের মুক্তিযোদ্ধারা চম্পার মতো রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধার কমান্ডার করার বিষয়টি অবহিত করেন এবং তাকে বহিস্কার করার জোড়ালো দাবী জানান।পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি এবং গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পান । পরবর্তীতে তাকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে বহিস্কার করা হয় । ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ তৈরীর জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি । তিনি মারা গেলে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করার চেষ্টা করে রত্মা আহম্মেদ এবং তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বাঁধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমন একজন স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সদস্য এবং রাজাকারের স্ত্রী কিভাবে সংসদ সদস্য মনোনয়ন পান।

অবিলম্বে রাজাকারের স্ত্রী রত্না আহম্মেদকে এমপি মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবী জানিয়েছে সচেতন নাটোরবাসী । মনোনয়ন না দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ই-মেইলে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছেন জেলার বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা।

বিশিষ্টজনের ক্ষোভ: যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধী চম্পার স্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, এটা স্ববিরোধিতা। একাধিক সংগঠন নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের সন্তানদের মনোনয়ন না দিতে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রচার চালিয়ে আসছে।মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে লেখা অনুরোধপত্রে লেখা হয়েছে-প্রিয় নেতা! আপনি বাংলার ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, তথা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সফল নেতা হিসেবে আবহমান বাংলার ইতিহাসে আবির্ভূত হয়েছেন। আপনি ক্ষণজন্মা বঙ্গবন্ধু তনয়া। তাই আপনি বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্তও পরীক্ষিত সৈনিক মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নয়নের মনি, আপনি পৃথিবীর ইতিহাসের সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত।

প্রচারে-বিশ্ব আওয়ামী অনলাইন ফোরাম

ফেসবুক লিঙ্ক: https://www.facebook.com/groups/1631694840459014/permalink/1988282328133595/

আরেকটি গ্রুপের লিঙ্ক https://www.facebook.com/groups/Juddahgroups/permalink/2421741101393928/