নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের শহিদ মুক্তিযোদ্ধা রেজা-রঞ্জু-সেলিম-বাবুলের ৪৯ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ (১ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭১ সালে তৎকালীন ছাত্রলীগ ও সংগ্রাম পরিষদ নেতা মজিবর রহমান রেজা ও গোলাম রব্বানী রঞ্জু ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে নাটোরের গুরুদাসপুর এলাকায় ঢুকে পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন। এছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার ময়না গ্রামে পাকসেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে তাদের পরাজিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৯ এপ্রিল গোপনে মায়ের সাথে দেখা করতে নাটোর শহরের কানাইখালী এলাকার বাসায় আসেন বাবুল। বাবুলের উপস্থিতি টের পেয়ে রাজাকাররা পাক সেনাদের খবর দেয়। বর্বর সেনারা কাপুরুষোচিতভাবে নিরস্ত্র যোদ্ধা বাবুলকে সেদিন তুলে নিয়ে যায় মায়ের চোখের সামনে থেকে। পাক সেনারা তাকে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালায়। পরে তাদের শরীরে পেরেক ঢুকিয়ে ও সিগারেটের ছাঁকা দিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর ১ সেপ্টেম্বর হত্যা করে।

এছাড়া অপর দুই শহিদের মধ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে আামিরুল ইসলাম বাবুলের সাথেই শহিদ হন শহরের গাড়িখানা এলাকার মজিবর রহমান রেজা, কানাইখালীর গোলাম রব্বানী রঞ্জু, সেলিম চৌধুরী। শহিদ রেজা ও রঞ্জুর মৃতদেহ নাটোরে পাওয়া গেলে তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা কানাইখালীতে রঞ্জুর বাড়ির সামনে তাদেরই দেয়া এক চিলতে জায়গায় দাফন করেন। শহিদ সেলিম চৌধুরী নওগাঁয় শহিদ হওয়ায় এবং বাবুলের লাশ পাকবাহিনী ফেরত না দেয়ায় নাটোরবাসী এই চার বীর শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেখিয়ে শহিদ রেজা-রঞ্জুর কবরের সাথেই শহিদ সেলিম ও বাবুলের নামে প্রতিকী কবরের ব্যবস্থা করে ঘিরে দেন।

এরপরে তৎকালীন নাটোর পৌরসভার চেয়ারম্যান আ্যডভোকেট মোঃ কামরুল ওই কবর চারটি বাঁধাই করে নাম ফলক লাগিয়ে দেন। স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতি বছরই অনেক ধরনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নাটোরের এই চার শহিদদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।