নিউজ ডেস্ক: নাটোরে ধর্ষণের শিকার এক নারীর সাথে বিয়ে করে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন ধর্ষণ মামলার অভিযুক্ত আসামি মানিক হোসেন। তার সাথে আদালত চত্বরে বিয়ে করার পরই অভিযুক্ত মানিকের জামিন মঞ্জুর করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটার এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) মামলার শুনানির দিনে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইসলাম ধর্ষক মানিক হোসেনের জামিন আবেদনের পাশাপাশি উভয় পরিবার বিয়ে দেয়ার জন্য সম্মতি প্রকাশ করেছে বলে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে। এ সময় আদালতে বাদী এবং আসামি পক্ষের আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, মকিমপুর মাঠে ছাগল চড়াতে গিয়ে রওশনপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের জমির মন্ডলের মেয়ে সম্পা খাতুনের সাথে পরিচয় হয় একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মানিকের। সেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন মানিক।

গত ১৮ অক্টোবর রাতে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের রওশনপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মানিক হোসেন একই এলাকার সম্পা খাতুন নামের এক নারীর ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে। এ সময় মোবাইলে পুরো ভিডিও ধারণ করে সে।

বিষয়টি সম্পার বাড়ির লোকজন টের পেলে মানিককে আটক করে। এক পর্যায়ে মানিক বিয়ের জন্য রাজি হয়ে কাজী ডেকে আনার কথা বলে চম্পট দেয়। এরপর থেকে সম্পার পরিবার বেশি বাড়াবাড়ি করলে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় মানিক।

এরপর ১৯ অক্টোবর ধর্ষণের শিকার নারী বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই ধর্ষক মানিক হোসেনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির দিন মানিকের জামিন আবেদনের পাশাপাশি উভয় পরিবার তাদের বিয়ে দেওয়ার জন্য সম্মতি প্রকাশ করেছে বলে আদালতকে অবহিত করি।

পরে নাটোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমান সরদার ধর্ষণের শিকার নারীর সাথে ধর্ষকের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর ধর্ষক মানিক হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেন। এ নিয়ে আদালত পাড়ায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী।