নিউজ ডেস্ক: নাটোরে শহরতলীর তেবাড়িয়া হাটে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ সময় সাবেক ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল মেম্বারের ২টি বাড়ি হামলা, দুইটি মটরসাইকেল ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সকালে তেবাড়িয়া হাটে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল প্রামাণিক (৬৫), তার স্ত্রী সফুরা বেগম (৫০), পুত্রবধু পুরনি বেগম (২২), কেয়া বেগম (২১), ছেলে সুজন প্রামাণিক (২৮) ও বাসার কেয়ারটেকার আনোয়ার (৫০)। আহতদের চিকিৎসার জন্য নাটোর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আটককৃতরা হলেন, হাটতেবাড়িয়া এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে সোহেল, মিজানুর রহমানের ছেলে নোহান, মৃত নাজমুল সরকারের পুত্র নয়ন ও হুগোলবাড়িয়া এলাকার বাবুল প্রামাণিকের ছেলে রতন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নাটোর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনের সাথে সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল মেম্বারের ছেলেদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এর মধ্যে (রোববার) তেবাড়িয়া হাটের ছাগল হাটায় বাবুল মেম্বারের ছেলে সুজন খাজনা আদায়কালে আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল তাকে মারপিট করে। পরে নাজমুল সমর্থকদের সঙ্গে বিতন্ডায় জড়ান সুজন। এ ঘটনায় নাজমুল হোসেনের সমর্থকরা বাবুল মেম্বারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম জানান, রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন হামলাকারী আমাদের বাসায় প্রবেশ করে হামলা ও ভাংচুর করে। এ সময় আমাদের না পেয়ে আমার অসুস্থ বাবা-মাসহ বাসার নারী সদস্যদের মারধর করে। হামলাকারীরা লুটপাট চালিয়ে নগদ টাকা র্স্বণালংকার নিয়ে চলে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে নাজমুল হোসেন বলেন, রোববার বিকেলে প্রতিপক্ষ বাবুল মেম্বারের ছেলে সুজন আমাকে মারধর করে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। এতে আমার আত্মীয়-স্বজন পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তবে বাড়ি ঘরে হামলা বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাঙ্গাঙ্গীর আলম জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় কয়েকটি বাড়ি ঘর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থল তেবাড়িয়া এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে সোহেল, মিজানুর রহমানের ছেলে নোহান, মৃত নাজমুল সরকারের পুত্র নয়ন ও হুগোলবাড়িয়া এলাকার বাবুল প্রামাণিকের ছেলে রতনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।