নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের এইচএসসির প্রথমদিনে ১১৫ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। সোমবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে জেলাজুড়ে ৩৬ টি কেন্দ্রে একযোগে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, নাটোর জেলায় এইচএসসি আলিম, ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। জেলায় মোট ৩৬ টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাধারণ ২০ কেন্দ্রে, ভোকেশনাল ১১ টি কেন্দ্রে এবং আলিম ৫ টি কেন্দ্রসহ মোট ৩৬ কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এইচএসসিতে নিয়মিত অনিয়মিত সব মিলিয়ে অংশগ্রহণ করেছে সাধারণ শাখায় ১২৯৮১ জন, আলিম শাখায় ৫০৩ জন, ভোকেশনাল এবং বিভিন্ন টেকনিক্যাল শাখায় ৮৭৪৩ জন সহ মোট ২২২২৭ জন পরীক্ষার্থী।

এদিকে গুরুদাসপুরে প্রবেশপত্র না পেয়ে নাহিদ হাসান নামে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী তাঁর আলিম পরীক্ষা দিতে পারেননি। তিনি উপজেলার নাজিরপুর সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ফরম পূরণ করেছিলেন। অধ্যক্ষের অবহেলায় প্রবেশপত্র পাননি বলে অভিযোগ করেন নাহিদ।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ওই মাদ্রাসা থেকে মোট ২৩ জন শিক্ষার্থী যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ফরম পূরণ করেছিলেন। অন্যদের সবার প্রবেশপত্র এলেও শিক্ষা বোর্ড থেকে তাঁরটি আসেনি।

অধ্যক্ষ মো. আবদুল হকের কাছে প্রবেশপত্র না আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, ‘শিক্ষা বোর্ডে’র ভুলের কারণে পবেশপত্রটি আসেনি। আগামী বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে সে।

বিধিমোতাবেক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কমপক্ষে ১০ দিন আগে প্রবেশপত্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে এসে থাকে। ভুলত্রুটি বা কোনো প্রবেশপত্র না এলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানের শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সমাধান করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ আবদুল হক পরীক্ষাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপই নেননি।

পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, সবার আগে অধ্যক্ষের কাছে পরীক্ষার ফি জমা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। সংসারে অভাব থাকায় নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতে পারেননি। তবু পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে থেকেই অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে এবং মুঠোফোনে তাঁর প্রবেশপত্রের জন্য জন্য যোগাযোগ করেছেন।

সর্বশেষ অধ্যক্ষ পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে প্রবেশপত্র দেওয়ার কথা বলেছিলেন। উপজেলার মশিন্দা আলীয়া মাদ্রাসার কেন্দ্রে গিয়ে সবাই প্রবেশপত্র পেলেও নাহিদ হাসান প্রবেশপত্র হাতে না পেয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এর ফলে জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে গেল।

অধ্যক্ষ আবদুল হক মুঠোফোনে বলেন, প্রবেশপত্রের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আগামী বুধবারের মধ্যে প্রবেশপত্রটি হাতে পাবেন ওই শিক্ষার্থী। অসাবধানতার কারণে এমনটি হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অধ্যক্ষের অসচেতনতার কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।