নিউজ ডেস্ক: নাটোরে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন ফলোআপ রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৮৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৩৫ জন, আর মৃত্যুবরণ করেছেন ১ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এই তথ্য জানায় নাটোরের স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে নাটোরে একুশে টেলিভিশন ও সমকাল প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাবীউর রহমান পিপলুসহ নাটোর সদরে রয়েছেন ১৯ জন, গুরুদাসপুরে রয়েছেন ৯ জন, বড়াইগ্রামের ছয়জন ও বাগাতিপাড়া দুইজন রয়েছেন।

জানা গেছে, নাটোরের ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের সভাপতি নাবীউর রহমান পিপলু নমুনা প্রদান করার পর থেকে তার নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। তিনি জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হলেও তার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।

এছাড়া নাটোর পুলিশ লাইনের হাসানুর রহমান ও হায়দার নামে দুইজন পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে নাটোর শহরের বড়গাছা এলাকার শাহজাহান করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া নাটোরের চিকিৎসক ইসরাত জাহান ও তার বাড়ির দুই সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তারা ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা হলেন, ইসরাত জাহান, শাহানারা ও মওদুদ হোসেন।

এদিকে নাটোর শহরের কাপুরিয়াপট্টি এলাকার সমর কুমার নামে একজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরি করেন। তাছাড়া কাপুড়িয়া পট্টি এলাকার তন্ময় কুমার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং পার্টটাইম স্বর্ণকারের কাজ করেন।

অন্যদিকে যমুনা ব্যাংক নাটোর শাখার রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি থাকেন আলাইপুরে। এছাড়া বুড়াদরগা এলাকার নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সিমেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করেন।

এছাড়া কাঠালবাড়িয়া এলাকার জাকির হোসেন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি আগে বিশ্বাস কোল্ডস্টোরেজে চাকরি করতেন। অন্যদিকে নাটোর সদর উপজেলার হালসা ফুলশর এলাকার মতিউর রহমান করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া নলডাঙ্গার মিজানুর রহমান করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি নাটোর সুগার মিলে চাকরি করেন।

অন্যদিকে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী তারেকের তিন বছরের শিশু সন্তান অহিদ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে স্বাস্থ্যকর্মী তারেকও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া বাগাতিপাড়ার বাটিকামারীর আশিকুজ্জামান করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি একজন ছাত্র।

এছাড়া নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আহমেদপুর এলাকার বাসিন্দা মাহবুব রশিদ, বড়াইগ্রামের চান্দাইহাট এলাকার সাব্বির মোল্লা, বনপাড়া বাজারের নাজনীন নাহার, পারকোল এলাকার ইসরাফিল ও বনপাড়া হাড়োয়া সোইলিন গোমেজ করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

এদিকে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের কর্মচারী মানিক ও শাকিব নামে গুরুদাসপুর কাচারীপাড়া এলাকার একজন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া একই এলাকার ব্যবসায়ী অহিদুল ও কৃষক আনারুল করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে গুরুদাসপুরের বিলশা গ্রামের মঈনুল নামে এক কৃষক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া খামার চাঁচকৈড় এলাকার ছাত্রী নুসাইরা, খলিফা পাড়া এলাকার মঈনুল, গুরুদাসপুর বামনবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী হারুন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া নাটোর সদরের বেশ কয়েকজনের এখনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিদের হোম আইসোলেশনের বিষয়টি নিশ্চিত করাসহ বাড়ি লক ডাউন ও আক্রান্তদের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের সকলের নমুনা সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আজ পর্যন্ত ৪৮৫৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭৪১ জনের নেগেটিভ এসেছে। ফলাফল স্থগিত আছে ৫৮০ জন ও ১৬১ জনের নমুনা বাতিল হয়েছে। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে আছেন ২২৭ জন।